সিলেটটুডে ডেস্ক

২৭ আগস্ট, ২০১৬ ১২:২৭

তামিমই জঙ্গিদের সংগঠিত করেছিল

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় পৈত্রিক নিবাস হলেও জঙ্গিনেতা তামিম আহমেদ চৌধুরীর কানাডায় বেড়ে ওঠা, এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে জঙ্গিদের নতুন ধারায় তৎপরতার নেপথ্য ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ।

গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নজিরবিহীন হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২২ জনকে হত্যার পর মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে এ তামিমকেই চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। তামিম শনিবার নারায়ণগঞ্জে অভিযানে নিহত হয়।

গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় ঘরছাড়া তরুণ-যুবকদের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিখোঁজ ১০ জনের যে প্রথম তালিকা দিয়েছিল, তাতে সিলেটের তামিমের নাম আসে। এর আগে মধ‌্যপ্রাচ‌্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস বাংলাদেশে দলের শাখাপ্রধান হিসেবে যে আবু ইব্রাহিম আল হানিফের নাম ঘোষণা করেছিল, সেই ব্যক্তি তামিম বলেই অনেকে মনে করছিলেন। তবে গুলশান হামলার পরই তামিমের নামটি ব্যাপক আকারে আলোচনায় আসে।

তামিম সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রামের প্রয়াত আব্দুল মজিদ চৌধুরীর নাতি। মজিদ চৌধুরী একাত্তরে শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে স্থানীয়দের তথ্য। তামিমের বাবা শফি আহমদ জাহাজে চাকরি করতেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনি সপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমান। কানাডার উইন্ডসরে থাকার সুবাদে ৩০ বছর বয়সী তামিমের বেড়ে ওঠাও সেখানে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, জঙ্গিনেতা তামিম ২০১৩ সালে বাংলাদেশে ফেরার পর থেকে নিখোঁজ হয়। ২০১৩ সালের অক্টোবরে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন বলে গত ২ অগাস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। গুলশান হামলার পর তামিমকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, এবং সে দেশেই আছে এমন তথ্য জানিয়েছিল পুলিশও।

তামিম আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের যোগাযোগ, এবং সে আইএসের এ অঞ্চলের সমন্বয়কারীও বলা হচ্ছিল। তবে তার আইএস-সংশ্লিষ্টতার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আইজিপি শহীদুল এক সংবাদ সম্মেলনে তামিমকে ‘নব্য জেএমবি’র শীর্ষনেতা বলে চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেছিলেন, “এখানে (গুলশান হামলা) মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী। নিউ জেএমবির নেতৃত্ব সে দিচ্ছে। এই তামিম চৌধুরীর পর যারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রধান তাদেরকেও আমরা চিহ্নিত করেছি।”

আইজিপি বলেছিলেন, গুলশান হামলাকারীদের তামিমই ‘রিক্রুট’ করেছিলেন।

“ঘটনার আগে সে তাদের ব্রিফিং দিয়েছে, তাদেরকে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার সময় তাদেরকে এগিয়ে দিয়েছে, আমরা সে তথ্য পেয়েছি।”

গুলশান হামলার পর ঢাকার কল্যাণপুরে যে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নয়জন নিহত হয়েছিলেন, সেখানেও তামিমের অবস্থান ছিল বলে মনিরুল জানিয়েছিলেন। এরপর তামিমের বিষয়ে তথ্য দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।  

এর মধ্যেই শনিবার (২৭ আগস্ট) ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় একটি তিন তলা বাড়ি ঘিরে অভিযানে নামে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস‌্যরা, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন হিট স্টর্ম টুয়েন্টি সেভেন’।

সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এক ঘণ্টার অভিযানে তামিমসহ তিনজন নিহত হন বলে মনিরুল জানান। তামিমকে গ্রেপ্তার করা গেলে জেএমবির ‘নতুন ধারার’ আদ্যোপান্ত বেরিয়ে আসবে বলে আশা করেছিলেন পুলিশ প্রধান শহীদুল হক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত