সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০৭

মেয়ে পাব না, বিচার চাই : তনুর মা’র আকুতি

নাট্যকর্মী ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস পর পরিবার নজরদারিতে আছে বলে অভিযোগ করেছেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম। একই সঙ্গে তিনি মেয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচার ও দুই ছেলের বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তনু হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বাউলশিল্পীদের প্রতিবাদ সমাবেশ তিনি এ অভিযোগ ও আশঙ্কার কথা বলেন।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মেয়েটা পাব না, বিচার চাই। এখন মনে হয়, ছেলে দুইটাকে নিয়ে বাঁচতে পারব না। আমাদের নজরদারিতে রাখা হয়। বাসা থকে বের হওয়ার সময় সেনানিবাসের গেটে ছবি তুলে রাখা হয়। আমাদের ওরা চাপে রাখে। আমি দেশবাসীর কাছে বিচার চাই।’

গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার উদ্যোগে বাউলদের নিয়ে গানে গানে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। সমাবেশে ডিএনএ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। পরে কান্দিরপাড় থেকে নগর উদ্যানে পদযাত্রা করেন বাউলশিল্পীরা। এতে নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে শহরের জামতলায় প্রতিবাদী বাউল সঙ্গীতের আসর বসে। এ কর্মসূচি চলে বেলা ২টা পর্যন্ত।

বেলা সাড়ে ১১টায় কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে কুমিল্লার অচিন পাখি বাউলগোষ্ঠীর অন্তত ৪০ জন শিল্পী জড়ো হন। এরপর সমাবেশে যোগ দেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম ও ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল। সমাবেশে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে কিছু বলার আগেই তনুর মা অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন।

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মেয়ে হত্যার ছয় মাস পার হলো; কিন্তু কিছুই তো হলো না। সিআইডি খালি দেখতাছি দেখতাছি বলছে, কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। তদন্ত কর্মকর্তা পাল্টানো হয়। মামলার কিনারা হয় না।’

এসব ষড়যন্ত্রের আলামত দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা সাহসও দেয় না, বিচারও করে না।’ এ সময় মেয়ে হত্যার বিচার হবে কি-না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন আনোয়ারা বেগম।

তনুর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখনও হত্যাকারীদের বিচার নিয়ে আমাদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ তনুর লাশ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরের কালভার্টের পশ্চিম পাশের ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২১ মার্চ বিকেলে তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। বর্তমানে ওই মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত