২৯ নভেম্বর, ২০১৬ ০১:৪৫
সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার হামলার শিকার খাদিজা বেগম নার্গিসকে (২৩) চিকিৎসার জন্য সাভারের পক্ষাঘাত গ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল থেকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিআরপিতে আনা হয়। এসময় সঙ্গে ছিলেন তার বাবা মাসুক মিয়া।
গত ৩ অক্টোবর বিকেলে সিলেটের এমসি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অর্থনীতি শেষ বর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের চাপাতির আঘাতে মাথা ও পায়ে গুরুতর জখম হন তিনি। প্রথমে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে মাথায় অস্ত্রোপচার শেষে পরদিন ভোরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রায় দুই মাস স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে খাদিজাকে সিআরপিতে নেয়া হয়। দুপুরে সেখানে পৌঁছার পর তাকে নিউরোলজিস্ট সাইদ উদ্দিন হেলালের চেম্বারে নেয়া হয়। এখন থেকে তার অধীনেই খাদিজার পরবর্তী চিকিৎসা চলবে।
প্রাথমিকভাবে খাদিজার সমস্যা শোনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নিউরোলজিস্ট সাইদ উদ্দিন। তিনি বলেন, 'খাদিজা তার শরীরের বাম অংশ এখনও অবশ অনুভব করছেন। এটি আমরা ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করব। এরপর পরবর্তী অবস্থা অনুযায়ী তাকে অন্যান্য চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে।'
এসময় সাংবাদিকরা খাদিজার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, 'খাদিজা যেহেতু সবে মাত্র হেড ইনজুরি কাটিয়ে ওঠেছে তাই তাকে কথা কম বলতে হবে। কত দিনে খাদিজা সুস্থ হয়ে উঠবেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ২/১ দিনের মধ্যে আমরা একটি ধারণা করতে পারব, আসলে তার সেরে উঠতে কত দিন লাগবে।'
খাদিজাকে সুস্থ করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান ওই নিউরোলজিস্ট।
খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া সাংবাদিকদের জানান, খাদিজার অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। মেয়ের সুস্থতার জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া চান।
খাদিজা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসাসহ সামগ্রিক বিষয়ে এখন দেখভাল করবেন সিআরপির নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
আপনার মন্তব্য