৩০ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৩৩
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে মারামারি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বিভিন্ন মেয়াদে আট শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
শনিবার রাতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১ এর শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তাফসির আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী চোখে গুরুতর আঘাত পান। বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর দিন কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটি গত ২৭ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দিলে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গত শনিবার ২২তম একাডেমিক সভায় তা চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়।
এতে শরীফ উদ্দিন খান (সপ্তম ব্যাচ) সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে, রজব সানি (সপ্তম ব্যাচ) চার বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে, আশীষ চন্দ্র চন্দ (সপ্তম ব্যাচ) দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে, আব্দুল্লাহ আবু আফফাজ (অষ্টম ব্যাচ) ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে, মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাট (অষ্টম ব্যাচ) এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে, ফারদিন রহমান ইফতি (অষ্টম ব্যাচ) ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হন। পাশাপাশি ছাত্রাবাস থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া মারামারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আকিব মাহমুদ নামের অন্য এক শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য শুধু ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মারামারিতে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূঁইয়া ও মাহমুদ খানকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী জানান, ২৯ আগস্ট থেকে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট আপিল করার সুযোগ পাবেন।
আপনার মন্তব্য