৩০ নভেম্বর, ২০১৬ ০১:৪৬
খসড়া বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬-এ সংযুক্ত বিশেষ ধারা বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ব্র্যাক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, নারীপক্ষ, উইমেন ফর উইমেন, কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, আমরাই পারি জোট, গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ পার্টনারশিপ, অপরাজেয় বাংলাদেশ, অ্যাকশন এইডসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে মন্ত্রীপরিষদ অনুমোদিত খসড়া বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬-এ সংযুক্ত বিশেষ ধারা বাতিল করে মেয়েদের ন্যুনতম বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ রাখার দাবি জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, এই আইনের ১৯ ধারায় উল্লেখ আছে যে, ‘অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনও বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনও নারীর সর্বোত্তম স্বার্থে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ-ক্রমে, বিবাহ সম্পাদিত হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে না’। তার মানে ‘আদালতের নির্দেশে এবং মা-বাবার সম্মতিতে’ কোনও শিশুরও বিয়ে হলেও তা অনুমোদন পাবে।
বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যুনতম ১৮ বছর নির্ধারিত থাকার পরও নানা কৌশলে কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে এই খসড়া আইনের সুযোগ নিয়ে অপরিণত বয়সে বিয়ের হার আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে একজন ১১-১২ বছরের কিশোরী গর্ভবতী হলে তাকে সুরক্ষা দেওয়া হবে। এটা শিশু-কিশোরীর প্রতি সংঘটিত যৌন নিপীড়নকে আইনসিদ্ধ করা বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।
সমাবেশে আরও বলা হয়, কোনো কিশোরী প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ দ্বারা গর্ভবতী হওয়া মানে সে ধর্ষণের শিকার; সেক্ষেত্রে ধর্ষকের সঙ্গেই কিশোরীকে বিয়ে দেওয়া অগ্রহণযোগ্য।
এছাড়া অল্প বয়সে দাম্পত্যের চাপ, গর্ভকালীন শারীরিক-মানসিক জটিলতা, বিষণ্ণতা ইত্যাদিও বাড়বে। তাছাড়া ১৮-র কম বয়সে গর্ভধারণ বিপজ্জনক। এখন আইন করে শিশু-কিশোরীদের এই ঝুঁকিপূর্ণ জীবনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে! বিবাহিত-বহির্ভূত গর্ভাবস্থা অবশ্যই একটা সামাজিক সমস্যা, এটা এড়াতে কৈশোরে মেয়ে-ছেলেদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং যৌন সম্পর্ক বিষয়ে সু-শিক্ষাদান জরুরি। বিয়ে ও সংসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে মেয়ে-ছেলে উভয়েরই পরিপক্বতা, বিচারবোধ, শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক প্রস্তুতি দরকার, যা ১৮-এর কম বয়সে হয় না। এর ব্যত্যয় ঘটলে নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক বিপর্যয় দেখা দেবে।
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের পরিচালক আন্না মিনজ, চিররঞ্জন সরকার, উইমেন ফর উইমেন-এর প্রেসিডেন্ট জাকিয়া হাসান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অন্যতম পরিচালক রীনা খান প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য