সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০১:৩৯

‘কোথায় আজ সাম্য, মানবিক মর্যাদা?’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, স্বাধীনতার সব লক্ষ্য আজ পদদলিত। তিনি প্রশ্ন করেন, আমাদের সংবিধান নাগরিকদের যেসব অধিকার দিয়েছে, কোথায় আজ সেসব অধিকার? কোথায় আজ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার?

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে এ কথা বলেন বিএনপির প্রধান।

খালেদা জিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য আদালতে পড়ে শোনান বিচারক। এরপর আদালত খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চান এসব অভিযোগ সঠিক কি না? জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়।

এরপর অভিযোগের বিষয়ে আদালতে কিছু লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাঁর জবানবন্দি শুরু করার কিছুক্ষণ পরে সেটা পরবর্তী তারিখে অব্যাহত রাখার জন্য সুযোগ ও সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ৮ ডিসেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সাফাই সাক্ষী দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলে আদালতে তাও মঞ্জুর হয়।

খালেদা জিয়া আদালতে লিখিত বক্তব্যে কী বলেছেন তা তাঁর প্রেস সচিব মারুফ কামাল খানের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘মাননীয় আদালত, আসসালামু আলাইকুম। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের শুরুতে মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে আমার কথা শুরু করছি। এ দেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছিল আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্য। শহীদ জিয়াউর রহমান সেই সব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সব লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানুষ অকাতরে জীবন দিয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। স্বাধীনতার সেসব লক্ষ্য আজ পদদলিত। সারা জাতি আজ লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত। সমগ্র বাংলাদেশকেই আজ এক বিশাল কারাগার বানানো হয়েছে। সবখানেই চলছে অস্থিরতা ও গভীর অনিরাপত্তাবোধ। মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী এই মুহূর্তে কারাগারে বন্দি। বিএনপির প্রায় ৭৫ হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন মেয়াদে কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন। আমাদের দলের চার লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ২৫ হাজারের মতো মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতন, হয়রানি ও গ্রেপ্তারের ভয়ে বহু নেতা-কর্মী বাড়িঘরে থাকতে পারেন না। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গুম, খুন, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিরোধী দলের অসংখ্য নেতাকর্মী। তাঁদের ঘরে ঘরে আজ কান্নার রোল। এখন সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বড় বেশি বলা হয়। কিন্তু কোথায় আজ সাংবিধানিক শাসন? আমাদের সংবিধান নাগরিকদেরকে যেসব অধিকার দিয়েছে, কোথায় আজ সেসব অধিকার? কোথায় আজ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার?’

দুপুর পৌনে ১টা থেকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুনানিতে অংশ নিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া।

গত ১০ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দুই সপ্তাহের সময় চান। পরে আদালত ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেন। কিন্তু ওই তারিখে তিনি হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময় আবেদন করলে আদালত ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।

ওই মামলার অপর আসামিরা হলেন—খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত