সিলেটটুডে ডেস্ক

১১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০১:৪৪

সংবিধানের মূল স্তম্ভ সংসদ বাতিল করতে পারে না : প্রধান বিচারপতি

জাতীয় সংসদ চাইলেই অনেক কিছু পরিবর্তন আনতে পারে কিন্তু সংবিধানের মূল কাঠামো (স্তম্ভ) বাতিল করে কোনো আইন বা সিদ্ধান্ত দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা। শনিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বাংলাদেশে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদারের আইন পেশায় ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, জাতীয় সংসদ চাইলেই অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারে। সংবিধানকে বন্ধ করে দিতে পারে। সুপ্রিম কোর্টকে বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু সংবিধানের মূল স্তম্ভ বাতিল করতে পারবে না।

সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীনতার ৪১ বছর ধরে সংবিধান রক্ষা করেছেন উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, যখনই সংবিধানকে লাইনচ্যুত করে বাঁকা পথে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তখনই সুপ্রিম কোর্ট এটিকে সোজা করে দিয়েছেন। পবিত্র সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত হওয়া থেকে সুপ্রিম কোর্ট সব সময়ই রক্ষা করেছে।

এসময় প্রধান বিচারপতি অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদসহ দুটি বিধান সংবিধানের মূল ভিত্তি ও কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে তাড়াতাড়ি তা থেকে সরে ৭২ (বাহাত্তর) যেতে সংসদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংবিধানের ১১৬ ও ১১৬ (ক) সংবিধানের মূল নীতির সাংঘর্ষিক। এই দুটো বিধান যে সংবিধানের পরিপন্থী, এটি আমাদের এই পবিত্র বই (সংবিধান) থেকে অতি তাড়াতাড়ি সরিয়ে ফেলার জন্য এখানে উপস্থিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানাব। এটি থাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বেশ ব্যাঘাত হচ্ছে।’

বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা এবং ১১৬ (ক) অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগীয় কর্মচারীরা বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন বিষয়ে বলা আছে।

বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রযুক্ত হবে।

আর ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত