১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০২:৩৩
বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মী জেনেশুনেই ব্যাংকের সুইফট নেটওয়ার্ক অনিরাপদ করে রেখেছিলেন। কয়েকজন বিদেশির সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এমনটা করা হয়। আর এভাবে ওই কর্মীরাই রিজার্ভের অর্থ চুরিতে সহায়তা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।
সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত, তারা কোনোভাবে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা শাহ আলম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তদন্ত কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাকের এক শ জনেরও বেশি কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন কর্মীর বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন রয়টার্সকে বলেছিলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঁচজন কর্মকর্তার অবহেলার প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন। যদিও ওই পাঁচজনের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
এসব বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট বা হিসাব থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি (৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে) মোট ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। সাইবার হামলা ঠেকানোর মতো ফায়ারওয়াল না থাকায় এবং সুইফটের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক সুইচের দুর্বলতার কারণে এ অর্থ চুরি হয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায়। বাকি দুই কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কায়। শ্রীলঙ্কা থেকে দুই কোটি ডলার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ফিরে এসেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আর ফিলিপাইন থেকে দেড় কোটি ডলার পাওয়া গেছে। বাকি অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া এখনো চলছে।
সূত্র : রয়টার্স
আপনার মন্তব্য