সিলেটটুডে ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৯:৪৮

রাষ্ট্রপতিকে বিএনপির তিন প্রস্তাব

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে রোববার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে বৈঠক করেছে বিএনপি। বৈঠকে দেশের ‘রাজনৈতিক সঙ্কট’ নিরসনে নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনসহ তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

বৈঠক শেষে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলোচনা ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে সুনির্দিষ্ট তিনটি প্রস্তাব দিয়েছি। সেগুলো হলো- নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে সবদলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে আহ্বায়ক করে নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি নিয়োগ, একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-আরপিও সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করা।

রাষ্ট্রপতি বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখবেন। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সাহসী নির্বাচন কমিশন গঠন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সকল রাজনৈতিক দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে তিনি তা করতে চান। রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রস্তাবকে গঠনমূলক ও সুন্দর বলে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এমনটাই জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতিকে বলেছি, নির্বাচন কমিশন গঠনে যেহেতু কোনো আইন নেই। তাই আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা মনেকরি রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্যের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন গঠন করা দরকার।

রাষ্ট্রপতি পদ্ধতিগত বিষয়গুলোর খুবই প্রশংসা করেছেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেছেন- আপনারাই প্রথম এই বিষয়ে কথা বলেছেন, তাই আপনাদেরই প্রথম ডেকেছি মতামত নেওয়ার জন্য। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পদ্ধতিগত বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নিবেন রাষ্ট্রপতি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলোচনায় আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, আজ আলোচনা শেষে আমরা আশাবাদী যে সমস্যা সমাধানে তিনি সিদ্ধান্ত নিবেন। আজকের আলোচনা একটি প্রাথমিক আলোচনা। তবে আজকের আলোচনা থেকেই সঙ্কট উত্তরণের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।

বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রতিনিধি দলে ছিলেন- দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বরচন্দ্র রায় ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পর্যায়ক্রমে বৈঠকের অংশ হিসেবে আজ বিএনপির সাথে বৈঠকে বসেন রাষ্ট্রপতি। আগামী ২০ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি, ২১ ডিসেম্বর এলডিপি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং ২২ ডিসেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) সঙ্গে আলোচনা করবেন রাষ্ট্রপতি।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আগামী কমিশন ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করবে।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত