২২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৭:০৩
নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে নির্বাচনী বিধিমালা ভেঙেছেন নারায়নগঞ্জের স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়নগঞ্জ বার একাডেমি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন তিনি। এ সময় গোপন কক্ষে প্রবেশ না করে প্রকাশ্যে ভোট দিয়ে ব্যালট উঁচু করে সাংবাদিকদের দেখান যে তিনি নৌকা প্রতীকে সিল দিয়েছেন। এ সময় তার হাতে সবুজ ও গোলাপী রঙের সদস্য পদের ব্যালটও ছিল।
আইভী-শামীমের বিভেদের খবরের কারণেই প্রকাশ্য ভোট দিলেন কিনা, এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হল কিনা জানতে চাইলে শামীম ওসমান বলেন, “সংবাদের খোরাক দেওয়ার জন্য আমি নিজেকে রক্তাক্ত করলাম।”
তবে শামীম ওসমানের সহযোগীদের দাবি, আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভির সাথে তার যাতে এ নিয়ে কোন বিরোধ না হয়, তাই তিনি তা প্রকাশ্যে দেখান।
বেলা আড়াইটার দিকে তিনি খানপুরে নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমি কেন্দ্রে পৌঁছেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন। জবাবে শামীম বলেন, “ভোট দিয়ে আসি, তারপর কথা বলি। আইসক্রিম রেডি করেন, আইসক্রিম খাব।”
নির্বাচনে না থেকেও ভোটের আগে-পরে আলোচনায় থাকা এ সাংসদ এরপর ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজের ব্যালট পেপার সংগ্রহ করেন। এরপর ব্যালট দেখিয়ে সবার সামনে নৌকা প্রতীকে সিল মারেন। সাংবাদিকদের ছবি নেওয়া হয়ে গেলে বাক্সে রাখেন ওই ব্যালট।
কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে শামীম ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। এ নির্বাচনে দুটি চ্যালেঞ্জ ছিল। ভোট সুষ্ঠু হয়ে একটি চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ হয়েছে। আরেকটি চ্যালেঞ্জ নৌকার বিজয়।
আইসক্রিমের কথা আবার মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আইভীর বিজয় নিশ্চিত দেখে বলেছি- হয় খাব, না হয় খাওয়াব। নৌকার বিজয় হবে।”
এদিকে বিধিমালা লঙ্গণের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নির্বাচন কমিশনের আইন শাখার যুগ্ম সচিব মো. শাজাহান বলেন, “অবশ্যই ভোট দিতে হবে গোপনীয়ভাবে এবং গোপন কক্ষে গিয়ে। প্রকাশ্যে দেখানোর বিধান নেই। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন ও বেআইনি।” বিষয়টি নিয়ে কমিশন অভিযোগ পেলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।
আপনার মন্তব্য