২৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৯:১৩
গুলশান হামলার পর শুরু হওয়া ধারাবাহিক জঙ্গি বিরোধী অভিযানের একটিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরের একটি বাড়িতে অভিযানের সময় কোনঠাসা হয়ে ধরা না দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন জঙ্গি নেতা তানভীর কাদেরী। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আশকোনায় একই পথ অনুসরন করল কিশোর ছেলেও। ওই এলাকায় শহীদ কাদেরী নামে পরিচিত ছিল এই কিশোর।
আজিমপুর অভিযানে তানভীরের স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা খাদিজা এক সন্তানসহ আটক হন কিন্তু অপর জমজ সন্তান তখন থেকেই নিখোঁজ ছিল।
অভিযানের সময় হ্যান্ড মাইকে বারবার আহবান জানানো হলেও কাদেরীর কিশোর ছেলেটি বেরিয়ে আসছিল না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জাম খাঁন কামাল জানান।
তিনি বলেন, “ছেলেটি কিছুতেই আত্মসমর্পণ করছিল না। তখন আমাদের পুলিশ গ্যাস নিক্ষেপ করে। সে গুলি চালানো শুরু করে। তখন ভেতরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে আমাদের পুলিশ দেখে সেখানে সে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।”
তানভীর কাদেরির বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। তার পূর্ব পুরুষ ছিলেন পাকিস্তানি। তানভীর পড়াশোনা শেষ করে একটি বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিতে চাকরি শুরু করেন। চাকরিসূত্রে তিনি সিলেটেও ছিলেন। পরে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং বিভাগে চাকরি নিয়ে ঢাকায় যান।
২০০১ সালে তিনি বিয়ে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে লেখাপড়া শেষ করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সেইভ দ্য চিলড্রেন’এ চাকরিরত ফাতেমাকে।
২০১৪ সালে হজ করতে সপরিবারে সৌদি আরবে যান তানভীর। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তানভীরের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রতা ধরা পড়ে আত্মীয় ও পরিচিতজনদের চোখে। তানভীর তার স্ত্রী, দুই কিশোর সন্তানকেও জঙ্গিবাদে দীক্ষিত করেন। তানভীর নিহত ওই ছেলে আশকোনা এলাকার কিশোরদের মধ্যে জঙ্গিবাদের প্রচার চালাত।
আপনার মন্তব্য