২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৮:৫৯
অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় শ্রাবণ প্রকাশনীকে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে লেখক-শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ বাংলা একাডেমির সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
মত প্রকাশের স্বাধীনতার বন্ধ করার ষড়যন্ত্র রুখতে এবং একাডেমি থেকে কূপমণ্ডূক-সুবিধাবাদীদের অপসারণের দাবিতে লেখক-শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী ও নাগরিকবৃন্দের ব্যানারে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বাংলা একাডেমির এ ধরণের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বিশিষ্টজনেরা। শুধু প্রতিবাদই নয় বাংলা একাডেমির এমন স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে শ্রাবণ প্রকাশনী।
শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবিন আহসান বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই শ্রাবণ প্রকাশনীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি মহা অন্যায়। আমরা আজকে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। এরপরও যদি বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে তাহলে পরে আরো কঠোর কর্মসূচি পালন করব।
কর্মসূচির সমন্বয়ক বাকী বিল্লাহ বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে শ্রাবণ প্রকাশনীকে দু’বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলা একাডেমির অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ করার আইনি এখতিয়ার বাংলা একাডেমির নেই।
সাবেক ছাত্র নেতা ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, শ্রাবণ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত যে বৈঠকে নেওয়া হয়েছিল সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। শ্রাবণ প্রকাশনী নিষিদ্ধের প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
কর্মসূচিতে বক্তারা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের মেয়াদ দুই বছর তারপরেও তিনি তিন বছর যাবত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকাশনী বন্ধের এখতিয়ার তার নেই। তিনি যা করেছেন তা এখতিয়ার বর্হিভূত।
বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও জনগণের বাংলা একাডেমি এখন আমলাতান্ত্রিক বাংলা একাডেমিতে পরিণত হয়েছে।
কর্মসূচীতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গবেষক ও কথা সাহিত্যিক দীপংকর গৌতম, সাবেক ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান খান মাসুম, অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য