সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ জানুয়ারি, ২০১৭ ০১:০৩

কয়েদির পোশাকে কনডেম সেলে সেই আসামীরা

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদসহ বরখাস্ত তিন কর্মকর্তাকে কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। দণ্ডিত হওয়ায় তাদের ডিভিশন বা বিশেষ সুবিধা বাতিল করে পরানো হয়েছে কয়েদির সাদা-কালো পোশাক। এখন থেকে সাধারণ বন্দির মতোই খাবার জুটবে তাদের। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিদেরও কনডেম সেলে রাখা হবে।

কারা অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিধি অনুযায়ী দণ্ডিত হওয়ার পর আর ডিভিশন কার্যকর থাকে না। তাই তাদের এখন সাধারণ ফাঁসির আসামি হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি হওয়ায় তাদের প্রতি বাড়তি নজরদারিও থাকবে।

কারা সূত্র জানায়, সাত খুন মামলার আসামিদের মধ্যে লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন গাজীপুরের কাশিমপুর-২ এবং মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার মাসুদ রানা কাশিমপুর-১ কারাগারে আছেন। তাদের মধ্যে র‌্যাব থেকে বরখাস্ত হওয়া তিন শীর্ষ কর্মকর্তা এতদিন ডিভিশন পেয়ে আসছিলেন।

আদালতের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছাতে দেরি হলেও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সোমবার থেকেই তাদের আলাদা সেলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ২৩ আসামির মধ্যে বাকিরা রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ কারাগারে। এর মধ্যে যাদের ফাঁসির রায় হয়েছে, তাদের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেন, কনডেম সেলের কয়েদিরা দুপুর ও রাতের খাবার হিসেবে সাদা ভাত, ডাল, সবজি ও মাছ বা মাংস পেয়ে থাকেন। দণ্ডিত হওয়ায় এখন থেকে র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তাদেরও এ খাবার সরবরাহ করা হবে। এখন তারা কাশিমপুর ও নারায়ণগঞ্জের কারাগারে থাকলেও পরে তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে।

দণ্ডিতদের মধ্যে তারেক সাঈদ কারাবন্দি অবস্থাতেও বিলাসী জীবন কাটিয়েছেন বলে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। শ্বশুর মন্ত্রী হওয়ার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এসব সুবিধা নেন বলেও দাবি করেন কেউ কেউ। কারাগারে তার জন্য টেলিভিশন, ফ্রিজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, পানির ফিল্টার ইত্যাদি পাঠানো হয়েছিল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত