০৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ২১:৩২
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সংসদে জানিয়েছেন, সন্ত্রাস-ধর্মীয় উস্কানীসহ অন্যান্য আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ করায় বাংলাদেশের ৮৭টি একাউন্ট বন্ধ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। শেষ ১৮ মাসে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে আপত্তিকর বিষয়ে ১৯৬টি একাউন্ট, পেইজ বা লিঙ্ক বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়। বর্তমানে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে সাড়া দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান।
স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত লিখিত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন জাসদের সংসদ সদস্য বেগম লুৎফা তাহের। জবাবে প্রতিমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়াসহ অনলাইন মিডিয়াগুলো মানুষের সক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি করেছে বলে উল্লেখ করেন। তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মতো বাংলাদেশেও কখনো কখনো এর অপব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সোস্যাল মিডিয়ায় কোন প্রকার পোস্ট যদি সহিংসতা ছড়ায় তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তালিকা করে সে সকল ক্ষেত্রে ‘ইউআরএল’ বিটিআরসিতে পাঠানো হয়। বিটিআরসি বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিডি-সিএসআইআরটি), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এর মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত এক বছর ধরে সকল এএনএস, আইএসপি ও সাইবার ক্যাফের আইপি লগ কমপক্ষে ছয় মাস সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সকল সাইবার ক্যাফেতে সিসিটিভি স্থাপন এবং তার রেকর্ড সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়ে মূল দায়িত্ব পালন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তিনি জানান, বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারি সংস্থা, এনটিএমসি এবং গোয়েন্দা সংস্থা হতে জঙ্গীবাদ ছড়ানো বিষযে ফেসবুক এবং অনলাইন মিডিয়ার ৩১টি একাউন্ট, পেইজ বা লিংক এবং বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল ও ব্লগ বন্ধ করতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এবং সকল আইআইজিকে অনুরোধ করা হয়। এর মধ্যে ২৫টি বন্ধ করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য