নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ২২:৪৬

প্রথমবারের মতো নারী কমিশনার পেলো নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী কমিশনার পেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন, যেখানে একমাত্র নারী হিসেবে কমিশনার হয়েছেন কবিতা খানম।

কবিতা খানমই হচ্ছেন প্রথম নারী যিনি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হলেন।

কবিতা খানম রাজশাহী জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন, বর্তমানে তিনি অবসরে আছেন।

সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করে গঠন করা ইসির বাকি সদস্যরা সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব রফিকুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে ব্রিফিংকালে মন্ত্রীপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বঙ্গভবনের সম্মতি নিয়েই এসব নাম ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন।

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম স্বাক্ষরিত নির্বাচন কমিশনে একজন নারী কমিশনার রাখতে হবে মর্মে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নারী কমিশনারের বিধান সংযুক্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে সার্চ কমিটির ‘কার্যপরিধি ও কর্মপদ্ধতি’ অংশে বলা হয়েছে, ‘অনুসন্ধান কমিটি ন্যূনপক্ষে একজন নারীসহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে সভায় সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে ২ (দুই) জন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করিবে এবং সিদ্ধান্তের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী সদস্যের নির্ণায়ক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকিবে।’

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্ব ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় তারা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে অর্পিত দায়িত্ব হিসেবে সম্ভাব্য যোগ্য ১০ ব্যক্তির তালিকা রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেন।

উল্লেখ্য, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সম্ভাব্য নির্বাচন কমিশনারদের নাম খুঁজতে গত ২৫ জানুয়ারি ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি সার্চ কমিটি গঠন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান করে এই কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি শিরীণ আখতারকে। এ কমিটি প্রথম বৈঠকে বসে গত ২৮ জানুয়ারি। সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সম্ভাব্য যোগ্য ব্যক্তিদের নামের তালিকা করার জন্য তাদের সময় বেঁধে দেওয়া হয় ১০টি কার্যদিবস।

সার্চ কমিটি ২৮ জানুয়ারি প্রথম বৈঠকে বসে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে। এরপর দুই ধাপে ১৬ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের পরামর্শ শোনে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম আহবান করে সার্চ কমিটি। দলগুলোও নাম প্রস্তাব করে। সেখান থেকে প্রথমে ২০ জনের ও পরে তা কমিয়ে ১০ জনের তালিকা করে সার্চ কমিটি।

৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ও অন্য তিন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। কমিশনার শাহনেওয়াজের মেয়াদ শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত