০৪ মার্চ, ২০১৭ ১৭:০৮
স্বভাবসুলভ হাস্যরসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান মাতালেন রাষ্ট্রপতি ও সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়েল খেলার মাঠে ৫০তম সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদানের সময় লিখিত বক্তব্যের বাইরেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা ডিগ্রীপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে শোনান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি লিখিত বক্তব্যের বাইরে কিছু বলতে চাই । নিজের কাছেই অবাক লাগে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। আমি ম্যাট্রিক থার্ড ডিভিশন। আইএ পাশ করছি এক সাবজেক্ট... লজিকে রেফার্ড"।
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আসলাম ভর্তি হওয়ার জন্য...তখন ভর্তি তো দূরের কথা, ভর্তির ফরমটাও আমাকে দেয় নাই। বন্ধু-বান্ধব অনেকে ভর্তি হইলো, ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে তখন আমি যুক্ত। ভর্তি যখন হইতে পারলাম না, তখন দয়ালগুরুর কৃপায় গুরুদয়াল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলাম।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশগ্রহণ করতাম। প্রায়ই ঢাকা আসতে হত। বিভিন্ন হলে থাকতাম। এমন কোনো হল নাই তখনকার সময়ে যেখানে ঢুকি নাই। অবশ্য রোকেয়া হলে ঢুকি নাই। তবে রোকেয়া হলের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিলাম"।
“বন্ধু-বান্ধব যারা পড়তো তারা কনভোকেশন ক্যাপ-গাউন পরত। আমাদের কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। তবে সমাবর্তনে আমাদের ডাকা হত না। যারা অনার্স-মাস্টার্সে ছিল, তাদের ডাকা হতো। কনভোকেশনে ক্যাপ-গাউন পরার খায়েস ছিল।”
"কিন্তু আল্লাহর কী লীলা খেলা বুঝলাম না, যেই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হইতে পারলাম না, সেইখানে আমি চ্যান্সেলার হইয়া আসছি"।
এসময় উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে শীতের সময় সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলাদেশে যতগুলি পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সবগুলির আমি চ্যান্সেলর। প্রায়ই সমাবর্তনে যেতে হয়। দেড়-দুইঘণ্টা ক্যাপ-গাউন পরে থাকতে হয়। আর এর মধ্যে বাতাসই ঢুকতে পারে না। গরম যখন থাকে তখন অবস্থা কাহিল।”
পরে নিজের ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান সময়ের রাজনীতির হালচাল নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
আপনার মন্তব্য