২৬ মার্চ, ২০১৭ ১৩:১৮
শিববাড়িতে পুলিশ চেকপোস্টে বোমা হামলায় নিহত পুলিশের পরিদর্শক মনিরুল ইসলামের পরিবারে চলছে মাতম।
জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুলের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সদরের মান্নান নগরে। রোববার সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ নিতে আসেন তাঁর ভাই সাইফুল ইসলাম শামীম ও বোন দিল আফরোজ রোজী। এ সময় হৃদয় বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়। বক্তব্য নিতে গিয়ে চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি দায়িত্বরত সাংবাদিকরাও।
সাইফুল জানান, তারা চার ভাই ও তিন বোন। দীর্ঘদিন থেকে মনিরুল সিলেটে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিজীবনে বিবাহিত মনিরুলের ১৫ মাস বয়সের এক পুত্র আছে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে সাইফুল বলেন, "আমার ভাইয়ের কি দোষ? প্রসাশনের মানুষ হয়েও যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে কোথায় যাব? ১৫ মাসের ভাতিজা এতিম হল, তার কি হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহবান জানাই আমার ভাতিজার দায়িত্ব নিন। সে দেশের কাজ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছে।"
মনিরের বোন রোজি অভিযোগ করে বলেন, "আহত উর্ধ্বতন অফিসারদের ঢাকায় পাঠানো হলো, আমার ভাইকে কেন নেয়া হলো না? আমরা প্লেনের ভাড়াও দিব বলেছি। ঢাকায় নিলে হয়ত আমার ভাই বাঁচত।"
শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গোটাটিকর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা সংলগ্ন পুলিশ চেকপোস্টে বোমা হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় নিহত হন ৬ জন। তারা হলেন- পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী মো. কয়সার, মনিরুল ইসলাম, মাসুক মিয়া, কলেজছাত্র অহিদুল ইসলাম অপু, নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম ও কুচাই এলাকার কলেজছাত্র জান্নাতুল ফাহিম। এছাড়া আহত হন আরও অনেকে।
নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। দুই পুলিশ কর্মকর্তার জানানা সিলেট পুলিশ লাইনে সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
আপনার মন্তব্য