৩০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২২
ছবি : ফেসবুক থেকে
ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর বাবু হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্তিতে ওয়াশিকুর বাবুসহ সকল মুক্তমনা হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) ওয়াশিকুর হত্যাকাণ্ডের বিচারে দীর্ঘসূত্রিতার সমালোচনা করেন অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা। একের পর এক ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হত্যাকাণ্ডের পর সরকারের নির্লিপ্ততার কারণে এখন দেশে জঙ্গিবাদের এই উত্থান ঘটেছে বলে অভিযোগ তাদের।
বক্তারা বলেন, আজকে এখানে ওখানে জঙ্গি আস্তানা কেন? আমরা বলেছি ধর্মীয় জঙ্গিবাদের উত্থানের কথা, কিন্তু সরকার কথা শোনেনি, বরং বলেছে- লেখালেখির কারণে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে।
বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় গোঁড়ামির আবরণে এসব খুনকে চাপা দিয়ে রাখা যাবে না। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের খুনের বিচার করতে হবে। ওয়াশিকুর বাবুসহ সকল মুক্তমনা হত্যার দ্রুত বিচার করতে হবে।
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় অবস্থান কর্মসূচিতে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ সকাল সোয়া ৯টায় তেজগাঁও বেগুনবাড়ির বাসা থেকে বেরিয়ে দীপিকা মসজিদ গলি দিয়ে অফিসে যাচ্ছিলেন বাবু। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হামলায় খুন হন তিনি। প্রকাশ্যে তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সেদিন। এই নৃশংস খুনের দুই বছর হলেও বিচার কাজ এখনো শুরু হয়নি।
বাবুকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিন খুনিদের মধ্যে দুই খুনি জিকরুল্লাহ ও আরিফুলকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন জনতা। বিশেষ করে তৃতীয় লিঙ্গের একজন মানুষের অসম সাহসিকতায় খুনিদের ধরা সম্ভব হলেও পালিয়ে যাওয়া অপর খুনির এখনো কোন হদিস দিতে পারেনি পুলিশ। খুনি জিকরুল্লাহ ও আরিফুল দুজনেই মাদ্রাসা ছাত্র।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায় হত্যার পর ওই হত্যাকাণ্ড ছিল ওই বছরের ধারাবাহিক দ্বিতীয় খুন। এরপর একে একে খুন হন বিজ্ঞান লেখক অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়, নাজিমুদ্দিন সামাদ, ফয়সাল আরেফিন দীপন; আহত হন আহমেদুর রশীদ টুটুল, রণদীপম বসু ও তারেক রহিম।
আপনার মন্তব্য