০২ এপ্রিল, ২০১৭ ০৯:৪৩
গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অনুমতির আবেদন) ও আপিলের রায় ঘোষণা করা হবে আজ রোববার (২ এপ্রিল)।
গত ২৭ মার্চ বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের এ দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
গত ৯ জানুয়ারি ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর সোমবার আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের মধ্যে আসামি রানা আপিল করেননি। তবে সাজা বাতিল চেয়ে রানার করা আবেদনে হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ রুল দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর এক আসামি ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপসহ সাতজন আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে অপর সাত আসামির আপিল, জেল আপিল এবং ছয় আসামির সাজা বৃদ্ধি চেয়ে রাজীবের বাবা নাজিম উদ্দিনের করা রিভিশন আবেদনের ওপর ওই দিন রায় দেবেন আদালত।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ব্লগার রাজীব হায়দারকে রাজধানীর পল্লবীতে তার বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রেদোয়ানুল আজাদ রানা (পলাতক) ও ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপকে এই হত্যায় জড়িত থাকার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এছাড়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিমউদ্দিন রাহমানিকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। আসামি সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।
রায়ে মাকসুর হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।
এ রায়ের পর মামলার নথিপত্র গত ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে আসে। পরে প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী এই মামলার পেপার বুক প্রস্তুত করা হয়।
গত বছরের ৩১ অক্টোবর এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসে।
আপনার মন্তব্য