১০ এপ্রিল, ২০১৭ ১৪:১০
তিস্তার পানিবন্টনের ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একরোখা মনোভাব সত্বেও তিস্তার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের সফরে না হলেও শিগগির তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসেই ভরসা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেছেন, তিস্তা চুক্তি সই হলে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক রূপান্তরের নতুন পর্যায় অতিক্রম করবে।
চার দিনের ভারত সফরের শেষ দিন সোমবার (১০ এপ্রিল) সকালে নয়া দিল্লিতে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করবে।
তিনি বলেন, "আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের অভিন্ন পানিসম্পদকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ করার শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনার সমাধানের জন্য একটি সমন্বিত, অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা।"
তিস্তা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যত দ্রুত সম্ভব চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এটি হওয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের রূপান্তরের আরেকটি পর্যায় অতিক্রম করবে।
ইংরেজি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যের একপর্যায়ে হিন্দিতেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিস্তা ইস্যুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, "দিদিকি সাথ বাত হুয়ি। পানি মাঙ্গা মাগার ইলেকট্রিসিটি তো মিলা। কুছ তো মিলা।" (দিদির সঙ্গে তিস্তা নিয়ে কথা হয়েছে। পানি না পেলেও বিদ্যুৎ তো পেলাম। কিছু তো পেলাম।)
ছয় বছর ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরেও হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ‘রাজ্যের স্বার্থের’ কথা বলে এখনও চুক্তির বিরোধিতায় অনড়। তবে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য তিস্তা চুক্তি যে গুরুত্বপূর্ণ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তা স্বীকার করেছেন।
শনিবার শেখ হাসিনার সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দুই দেশের বর্তমান সরকারের মেয়াদেই তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যার সমাধানে পৌঁছনো যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যত দ্রুত সম্ভব তিস্তার সমাধান করতে তার সরকারের আন্তরিক আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আর তা বাস্তবায়ন হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও একটি রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে।”
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানি।
আপনার মন্তব্য