১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ১১:৩১
চট্টগ্রামে সুইমিং পুল নির্মাণের বিরোধিতা করে প্রকল্প এলাকায় ভাংচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আসামি করে দুটি মামলা হয়েছে। সুইমিংপুল প্রকল্প এলাকায় ভাংচুরের ঘটনায় ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম স্বপন ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এসআই মহিউদ্দিন রতন বাদী হয়ে বুধবার গভীর রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন।
কোতোয়ালি থানার এসআই রোকেয়া পারভীন জানান, দুই মামলায় ৫৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ জানান, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে দুই মামলাতেই আসামি করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়ামের ৭০ হাজার ৩৮০ বর্গফুট জায়গায় ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সুইমিং পুল নির্মাণ করা হচ্ছে চট্টগ্রামে জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) তত্ত্বাবধানে, যার সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
গত ১০ এপ্রিল লালদীঘি মাঠে এক সমাবেশ থেকে সুইমিং পুল করার উদ্যোগ বন্ধ করতে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু সপ্তাহখানেক আগে আউটার স্টেডিয়াম টিন দিয়ে ঘিরে প্রকল্পের কাজ শুরু করে সিজেএকএস।
এরপর মহিউদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ সভাপতি ইমু, সাধারণ সম্পাদক রনি, সহ সভাপতি রুমেল বড়ুয়া রাহুলসহ কয়েকজন গত রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। সেখানে সুইমিং পুলের কাজ বন্ধ করে সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে প্রকল্প এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের পর সেখানে ভাংচুর ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় ১৪ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং বেশি কিছু গাড়ি ও দোকান ভাংচুর করা হয়। পরে পুলিশ শটগানের গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সুইমিং পুল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: সিজেকেএস
এদিকে, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের এক দল নেতা-কর্মীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় এই স্থাপনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুষ্ঠানের ওই স্থানে সুইমিং পুল নির্মাণের বিরোধিতা করে তা থেকে সরে আসতে সিজেকেএসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, যার সঙ্গে গত কিছুদিন ধরে মহিউদ্দিনের বাদানুবাদ চলছিল।
কয়েকদিনের কথার লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে মহিউদ্দিন ও নাছিরের হাত মেলানোর একদিন বাদেই মঙ্গলবার ছাত্রলীগের এক দল নেতা-কর্মী সুইমিং পুল নির্মাণের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
এরপর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সিজেকেএসের সুইমিং পুল বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আলী আব্বাস বলেন, এই সুইমিং পুল চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি স্বপ্ন।
“সুইমিংও স্পোর্টসের অংশ। তাই সুইমিং পুলকে খেলার মাঠ থেকে আলাদা করে দেখার কোনো মানে নেই। মূলত ক্রীড়া জ্ঞানের অভাবে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট নয় এমন কিছু ব্যক্তি সুইমিং পুল নির্মাণের বিরোধিতা করছে, যা ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধাও বটে।”
এ সুইমিং পুলটি আন্তর্জাতিক মানের সাতারু তৈরিতে অবদান রাখবে বলে মনে করেন আব্বাস।
চট্টগ্রামে কোনো সুইমিং পুল না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রায় শতাধিক খেলোয়াড় সাঁতার জানেন না। সাঁতার না জানার কারণে অনেক তরুণের নদী, পুকুরে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনাও আছে। সুইমিং পুল নির্মাণের মধ্য দিয়ে আমরা সেটা কাটিয়ে উঠব।”
সুইমিং পুলকে অন্য স্থানে সরাতে ছাত্রলীগের দাবির উত্তরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নেতা সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর বলেন, “দেশের ১৭টি জেলায় সুইমিং পুল আছে, যার প্রত্যেকটি স্টেডিয়াম সংলগ্ন। রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে সবগুলো সুইমিং পুল স্টেডিয়ামের সাথেই করা হয়।”
আপনার মন্তব্য