১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ২২:৩৪
ধর্মাশ্রয়ী রক্ষণশীল সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সরকার আপস করেছে দাবি করে আন্দোলনে নামছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কিছুই মানি না’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সমাবেশ আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এতে মৌলবাদের সঙ্গে সরকারের নতি স্বীকারের প্রতিবাদ জানানো হয়। আগামী ২০ মে ঢাকায় সারা দেশের সংস্কৃতিকর্মীদের কনভেনশনের ঘোষণা দেন জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, সরকার হেফাজতসহ নানা মৌলবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কখনো কখনো আপস করছে, দাবি মানছে। হেফাজতের দাবি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ছড়ানো হয়েছে, এখন ভাস্কর্য অপসারণের দাবি উঠেছে। এর সঙ্গেও আপসরফার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সৈয়দ হাসান ইমাম ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ সমাবেশে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করলেও ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে বক্তব্য দিতে পারেননি।
বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা বলেন, ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর। সরকার ও সমাজের কাছে হেফাজতসহ মৌলবাদী সংগঠন একের পর এক দাবি করছে। সরকার সেই দাবির সঙ্গে আপস করছে। প্রথম প্রমাণ করল পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। এখন ভাস্কর্য অপসারণের দাবি উঠেছে।
বাংলাদেশ চারুশিল্পী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, কিছুদিন আগে শিক্ষাক্রমে যে পরিবর্তন করা হয়েছে, সেটি পাকিস্তানের শিক্ষাক্রমকেও হার মানাবে। ভাস্কর্যশিল্পের ওপর আঘাত এসেছে, সেগুলো সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে যেই বহাল করার চেষ্টা করুক, সাংস্কৃতিক কর্মীরা রুখে দাঁড়াবেন।
সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, ২০১৩ সালে যারা প্রিয় নগরীকে ক্ষতবিক্ষত করেছিল, নারীর প্রতি সহিংসতা করেছিল, সে জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। চট্টগ্রাম চারুকলা ইনস্টিটিউটের বৈশাখের আলপনায় কালো কালি দেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতিকর্মীরা নতুন আলপনা এঁকেছেন। দানবদের যাতে ভুলে না যায়, সে জন্য কালো দাগগুলো রেখে দেওয়া হয়েছে।
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে যারা বিশ্বাস করে না, তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।
আপনার মন্তব্য