সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ মে, ২০১৭ ১৫:১৯

‘হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীরা চিহ্নিত’

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের তাণ্ডব চালানোর নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করার দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান মনিরুল।

মনিরুল বলেন, সেদিন অনেক জনসমাগম হয়েছিল। তাই প্রত্যেককে চিহ্নিত করে তাদের থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের প্রত্যেকের রোল খুঁজে বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছে পুলিশ। এজন্যই সময় লাগছে।

২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা গণজাগরণ আন্দোলনের জের ধরে বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েমের ১৩ দফা দাবি নিয়ে ওই বছরের ৫ মে রাজধানী ঘেরাও করেছিল হেফাজত কর্মীরা। পরে সেদিন তারা শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। সহিংস বিক্ষোভে দিনভর ব্যাপক হাঙ্গামা হয়। হামলা হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। সড়কের পাশের গাছ কেটে ও আগুন ধরিয়ে তাণ্ডব তৈরি করে হেফাজত কর্মীরা। তাদের দাবি পূরণ না হলে শাপলা চত্বর না ছাড়ার ঘোষণা দেয় তারা।

হেফাজত কর্মীরা সেদিন শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীকে তাদের সমর্থনে মাঠে নামার আহ্বান জানান। আর হেফাজত কর্মীরা সরকার পতন না পওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

পরে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে পিছু হটে হেফাজত কর্মীরা। ওই অভিযানের পর হাজার হাজার মানুষকে হত্যার গুজব ছড়ানো হয়। কিন্তু পরে 'নিহত' কারো নাম জানাতে পারেনি হেফাজতে ইসলামী। বরং জীবিত কয়েকজনের নাম মৃত বলে ছড়ানোর বিষয়টি প্রমাণ হয়।

তবে হাজার হাজার মানুষ নিহতের প্রচারে সে সময় ভীষণ চাপে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকার এবং দেশের পাঁচ মহানগরে নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হেরে যান তাঁদের প্রার্থীরা।

ওই দিনের ঘটনায় রাজধানীর কয়েকটি থানায় ৪০টির বেশি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনিরুল। এগুলোর মধ্যে ২১টির বাদী পুলিশ, বাকিগুলো করেছেন ভুক্তভোগী বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংস্থা।

মনিরুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরে তাণ্ডবের মামলাগুলোর বেশিরভাগই তদন্তাধীন। তদন্ত কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহে সময় লাগছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত