সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ মে, ২০১৭ ২২:০৩

ভয় ও দমনের বেড়াজালে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: অ্যামনেস্টি

ছবি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

‘ভয় ও দমনের বেড়াজালে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সেক্যুলার ব্লগারদের ওপর হামলা করেও পার পেয়ে যাচ্ছে সশস্ত্র সংগঠনগুলো। গত চার বছরে মাত্র একটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয় হয়, বাংলাদেশে অ্যাক্টিভিস্টরা নিয়মিত মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছেন। প্রাণভয়ে তাঁদের কেউ কেউ দেশ ছেড়েছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করেছে।

বাংলাদেশ সরকার ভিন্ন মতাবলম্বীদের রক্ষা বা সশস্ত্র যে সংগঠনগুলো তাদের হুমকি দিচ্ছে তাদের দায়ী করতে শুধু ব্যর্থই হয়নি, দমনমূলক কৌশল ও নতুন নতুন আইন দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার শ্বাস রোধ করেছে বলেও উল্লেখ করে সংগঠনটি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই দাবি করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরজুড়ে প্রকাশ্য বিতর্ক ও সমালোচনার ওপর দমন-পীড়ন জোরদার করেছে সরকার। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানি, তাঁদের কাজে হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এনেছে।

বাংলাদেশে হামলার শিকার অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সরকার দোষারোপ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলা হয়, ২০১৬ সালের এপ্রিলে ঢাকায় নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয় নাজিমুদ্দিন সামাদকে। সরকার এই হত্যার দায় চাপায় সামাদের ওপর।

নাজিম হত্যার পর অর্থমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, তাঁর (সামাদ) লেখায় ‘আপত্তিকর’ বিষয় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেক্যুলার লেখকদের লেখালেখিকে ‘নোংরা শব্দ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

অ্যামনেস্টি দাবি করেছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার গণমাধ্যমে তার সমালোচনা ঠেকাতে নানা হস্তক্ষেপের পাশাপাশি কালাকানুনও ব্যবহার করছে।

“বাংলাদেশ সরকার সাংবাদিকতার সঙ্গে এমন ব্যবহার করছে যেন এটা একটা অপরাধ,” বলেন ব্লোমকভিস্ট।

“তাদের জেলে পুরছে, হুমকি দিচ্ছে, ভয় দেখাচ্ছে, তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করছে। বিরুদ্ধ মত দমনে যা যা করা দরকার, তার সবই সরকার করছে।”

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা ‘সীমা’র বাইরে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের কাউকে নিয়ে কোনো সমালোচনায় সাহসী হচ্ছেন না বলে অ্যামনেস্টির দাবি।

ইংরেজি দৈনিক দ্যা ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৮৩টি মামলার কথা উল্লেখ করেছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

মাহফুজ আনাম গত বছর এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে স্বীকার করেন যে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার সময় কোনো সূত্রের উল্লেখ না করে তার সংবাদপত্রে ডিজিএফআইর সরবরাহ করা ‘শেখ হাসিনার দুর্নীতি’র খবর প্রকাশ ভুল ছিল। তার স্বীকারোক্তির পর আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাগুলো করেন।

শফিক রেহমানকে বন্দি করার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি, যিনি শেখ হাসিনাপুত্র জয়কে হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

অ্যামনেস্টি বলছে, বাংলাদেশ সরকার এখনও পুরনো ঔপনিবেশিক আইনের প্রয়োগ ঘটিয়ে সাংবাদিকদের উপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।

সমালোচনা বন্ধ করতে বিতর্কিত তথ্য প্রযুক্তি আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগেও উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

ব্লোমকভিস্ট বলেন, “বাংলাদেশে এই দমন-পীড়ন অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।”

প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে যারা হুমকির সম্মুখীন, তাদের নিরাপত্তা বিধানের দাবি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। এরপর নিবর্তনমূলক আইনগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছে তারা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত