সিলেটটুডে ডেস্ক

০৭ মে, ২০১৭ ২৩:১৯

বনানীতে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেছিল ধর্ষকরা

রাজধানীর বনানীতে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনাটি ভিডিও করেছিল ধর্ষকরা। এরপর ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী।

তরুণীদের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাদমান সফিক তাদের প্রায় ২ বছর আগের পূর্ব পরিচিত। ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে গুলশান-২ নম্বরের ৬২ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের। এরপর জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে গত ২৮ মার্চ সাফাত আহমেদ তার গাড়ি পাঠিয়ে ড্রাইভার ও বডিগার্ডের মাধ্যমে তরুণীদের বাসা থেকে বনানীর রেইনট্রি হোটেলের ছাদে নিয়ে যান।

এজাহারে তরুণীরা জানান, হোটেলের ছাদে যাওয়ার পর কোনও ভদ্রলোককে তারা দেখতে পাইনি। সাফাত, নাঈম ও সফিক ছাড়াও সেখানে আরও দুজন মেয়ে ছিল। তাদের ওই হোটেলে নিয়ে যাওয়ার পর আগে থেকে সেখানে থাকা অন্য দুটো মেয়েকে সাফাত ও নাঈম বার বার নিচে নিয়ে যাচ্ছিল। সেখানকার পরিবেশ ভালো না লাগায় দুই তরুণী চলে যেতে চাচ্ছিলেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে তাদের দুজনকে একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এ সময় সাফাত তার ড্রাইভার বিল্লালকে ধর্ষণের ভিডিও করতে নির্দেশ দেয়। তখন ড্রাইভার বিল্লাল ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করে। পরবর্তীতে সাফাত তার দেহরক্ষীকে তরুণীদের বাসায় পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ও ভয়ভীতি দেখায়। তাদের হুমকি ও লোকলজ্জার ভয়ে এক পর্যায়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা।

তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

শনিবার (৬ মে) বিকালে তরুণীরা বনানী থানায় হাজির হয়ে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হচ্ছেন, সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সফিক, ড্রাইভার বিল্লাল ও সাফাত আহমেদের বডিগার্ড (অজ্ঞাত)।

মামলা দায়েরের পর শনিবার রাতেই দুই তরুণীকে তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায় পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে তরুণীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদকে প্রধান করে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- ডা. মমতাজ আরা, ডা. নিলুফার ইয়াসমিন, ডা. কবিতা সাহা ও ডা. কবির সোহেল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত