০৯ মে, ২০১৭ ০১:০৫
রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি শাফাত আহমেদ বাসায়ই আছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা দিলদার আহমেদ। তবে পুলিশ জানিয়েছে ওই বাসায় অভিযান চালিয়েও শাফাতকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শাফাতের বাবা ও ও আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বলেন, পুলিশ আমাদের বাসায় এসেছিল। কথাবার্তা বলেছে। তারা তদন্ত করে দেখছে।
আর এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক আবদুল মতিন বলেন, কয়েকবার বাড়িতে গিয়েও সাফাতকে পাননি তারা।
২৪ বছর বয়সী শাফাত আহমেদ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতক পাস করে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করে আসছেন।
দিলদার আহমেদের দাবি, তাঁর ছেলে মা-বাবাকে না জানিয়ে বছর দু-এক আগে বিয়ে করেন। দুই মাস আগে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। জন্মদিনের পার্টিতে তাঁর ছেলের সাবেক স্ত্রী ওই দুজন মেয়েকে পাঠিয়েছিল বলে সন্দেহ করছেন তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম বলেন, ধর্ষণের এই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।
গত শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বনানী থানার পুলিশ ধর্ষণের মামলা নেয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ৪৮ ঘন্টা পর মামলা নেয় পুলিশ।
হয়রানি বাড়াতে মেডিকেল পরীক্ষার নামে দুই ছাত্রীকে দীর্ঘ সময় থানায় বসিয়ে রাখা হয়। রাত ১০টার দিকে তাঁদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়।
শনিবার বনানী থানায় মামলাটি দায়েরের পর এখনও পাঁচ আসামির কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
আসামিদের মধ্যে সাফাত (২৬) ছাড়াও রয়েছেন একজন ঠিকাদারের ছেলে নাঈম আশরাফ (৩০), পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ (২৪)। বাকি দুই আসামির একজন সাফাতের দেহরক্ষী ও অন্যজন গাড়িচালক।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সাফাত, নাঈম, সাদমান এবং ঢাকার একজন সংসদ সদস্যের ছেলে বনানী ১১ নম্বর সড়কে একটি রেস্তোরাঁ চালান। এছাড়া তাদের একাধিক সীসা বার রয়েছে।
মামলার বাদী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেয়ে ২৮ মার্চ এক বান্ধবীসহ তিনি ‘দি রেইনট্রি’ হোটেলে গিয়েছিলেন। সেখানে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাতভর আটকে রেখে সাফাত ও নাঈম তাদের ধর্ষণ করেন। অন্য তিনজন তাতে সহায়তা করে।
আসামিদের চিহ্নিত করা গেছে বলে জানিয়েছেন ডিবির উপ-কমিশনার নাজমুল।
অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে নাজমুল বলেন, আসামিরা যাতে দেশ ছাড়তে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
আপনার মন্তব্য