১২ মে, ২০১৭ ২০:০৩
সারাদেশে একের পর এক ধর্ষণ, খুনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটা থেকে শাহবাগে শুরু হয় গণসমাবেশ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বনানীর ধর্ষণের ঘটনা, ধর্ষণের বিচার না পেয়ে বাবা- মেয়ের আত্মহত্যা, তনু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার না হওয়া এবং সারাদেশের আনাচেকানাচে খুন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝরে বক্তাদের বক্তব্যে।
সমাবেশে অংশ নিয়ে মানবাধিকার নেত্রী খুশি কবির বলেন, "যারা ধর্ষণের শিকার হন, তাদেরকে সাহস করে মুখ খুলতে হবে, ধর্ষণের বিচার চাইতে হবে। ধর্ষণ এখন একটা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ধর্ষণকে খুব স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশে এটা আমরা মেনে নেব না।"
সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, "তনু নামের মেয়েটি একটি সংরক্ষিত এলাকায় ধর্ষিত হল, সবাই জানে কারা ধর্ষক। সারাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে, তবু বিচার হয়নি।"
তিনি বলেন, "জনগণের দাবির মুখে বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ধর্ষক, ধনকুবেরের ছেলেদের গ্রেপ্তার করার পর তারা নিজস্ব বডিগার্ডসহ আদালতে গেলো। দরিদ্র কেউ অপরাধ করলে তার কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যায়। তাহলে এই দিলদার আহমেদের ছেলেদের বেলায় সেটা হল না কেন, সেটাই আমাদের প্রশ্ন। এই বডিগার্ডরাই তো ধর্ষণের সময় বন্দুক ধরে রেখেছে, ভিডিও করেছে। বডিগার্ড নিয়ে বের হচ্ছেন, জনগণ বডিগার্ডসহ ধোলাই দিয়ে শায়েস্তা করবে। বাংলাদেশের জনগণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে বলে ভেবেছেন কিছুই করবে না। দিলদার আহমেদদের মনে করিয়ে দিতে চাই, বডিগার্ডরা আপনাদের পাহারা দিয়ে রাখতে পারবে না। এই পুলিশরাও আপনাদের পাহারা দিয়ে রাখতে পারবে না। ধর্ষকদের পক্ষে যারাই দাঁড়াবে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে জনগণ সবার বিরুদ্ধেই লাঠি নিয়ে নামবে।"
"একজন ধর্ষক এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশ প্রশাসনকে বলছি, সব অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করুন। কোটি কোটি টাকা নিয়ে যে আইনজীবীরা এই ধর্ষক- লুটেরাদের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন, তাদেরও আমরা চিনতে চাই। আমি ঘোষণা দিতে চাই, বিচার শুরু হলে আদালতেও আমরা যাব। কোন আইনজীবীরা ধর্ষকদের পক্ষ নিয়ে মিথ্যাচার করেন, সেটা আমরা দেখবো", বলেন ইমরান।
ইমরান এইচ সরকার আরো বলেন, "শুধু এই দুজন শিক্ষার্থীর ধর্ষণ নয়, হযরত আলী তার শিশু কন্যা আয়েশাকে নিয়ে যে আত্মহত্যা করলো বিচার না পেয়ে, এরচে' লজ্জার আর কী হতে পারে! আমরা জলজ্যান্ত মানুষেরা ঘুরে বেড়াচ্ছি, আর একজন নাগরিক তার শিশু কন্যা ধর্ষণের বিচার না পেয়ে রেললাইনে গিয়ে আত্মহত্যা করলো, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের এর জন্য প্রায়শ্চিত্ত করা উচিত।
প্রতিদিন মানুষ খুন হচ্ছে, নদী-নালা-ডোবায় লাশ পাওয়া যাচ্ছে, এই লাশগুলো কাদের? এই লাশগুলো বাংলাদেশের নাগরিকের, আমাদেরই ভাই-বোনের। চুপ থাকতে থাকতে আমরা বিকারহীন হয়ে গেছি।"
"যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো হযরত আলীকে আত্মহত্যা করতে না হয়, তার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সজাগ থাকতে হবে। আমরা যদি সজাগ না থাকি, তাহলে আজকে হযরত আলী আত্মহত্যা করেছে, ভবিষ্যতে একে একে সবাইকে আত্মহত্যা করতে হবে।
যদি আত্মহত্যাই করতে হয়, হযরত আলীর মত নিভৃতে সবাই আত্মহত্যা করবে এটা ভাববেন না। যদি আত্মহত্যাই করতে বাধ্য করেন, তবে এই খুনি ধর্ষক লুটেরাদের মূলোৎপাটন করার জন্য যে ধরণের বিদ্রোহ দরকার, সেটা আগে করা হবে।"
"বছরের পর বছর যাদের হত্যা, ধর্ষণ করা হয়েছে, তাদের প্রাপ্য বিচার করুন। তা না হলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, তার দায় আপনাদেরই নিতে হবে।"
গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী জীবনানন্দ জয়ন্ত'র সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ এ.এন. রাশেদা, ভাস্কর রাসা, ডা. নাজিম উদ্দিন, সাঈদা সুলতানা অ্যানি, শম্পা বসু, জিলানী শুভ, ইমরান হাবিব রুম্মন ও আরো অনেকে।
সমাবেশের পর গণজাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে ফিরে আসে।
আপনার মন্তব্য