১৪ মে, ২০১৭ ২২:৪৫
রাজধানীর বনানীর দি রেইনট্রি হোটেল এ দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে ৩ তারকা সমমানের এই হোটেলটির গুগল রিভিউ এর র্যাংকিং এ ধস নেমেছে।
গত ২৮ মার্চ হোটেলটিতে ধর্ষণের এ ঘটনাটি ঘটে, আর হোটেলটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ৯ এপ্রিল। উদ্বোধনের আগেই হোটেল রুম ভাড়া দেওয়া প্রসঙ্গে অবশ্য হোটেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, ট্রায়াল হিসেবেই রুম ভাড়া দেয়া হয়েছিলো।
গুগল রিভিউয়ে দি রেইনট্রি হোটেলটি ৫৬৩ জনের রিভিউয়ের ভিত্তিতে বর্তমানে ২.৩ র্যাংকিং এ আছে। আর এর প্রায় সবকয়টি রিভিউই গত এক সপ্তাহের মধ্যে দেয়া।
গত এক সপ্তাহের সবকটি রিভিউ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হোটেলটিতে ধর্ষণের ঘটনার কারণেই হোটেলটিকে অনিরাপদ হিসেবে উল্লেখ করছেন বেশিরভাগ রিভিউদাতা।
এছাড়াও ধর্ষণকে পৃষ্ঠপোষকতা করার কারণে হোটেলটি বয়কট করার বিষয়েও রিভিউতে উল্লেখ করেন রিভিউদাতারা। রিভিউদাতাদের অনেকেই এ হোটেলটিকে ‘র্যাপ জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
সাম্প্রতিক এ র্যাংকিং বিপর্যয়টি পরবর্তীতে ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কতটা ক্ষতিকর অবস্থান তৈরি করছে জানতে দি রেইনট্রি হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ চেষ্টা করা হলে হোটেল কর্তৃপক্ষের কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে, শনিবার (১৩ মে) বনানীর রেইনট্রি হোটেলের এক্সিকিউটিভ ইন্টারনাল অপারেশন অফিসার ফারজান আরা রিমি তাদের হোটেলে ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, "এখানে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটা একটা মিথ্যা কথা। কারণ যেদিন এই ঘটনা ঘটেছে, সেদিন আমাদের আর্চওয়ে (যে পথে সার্চ মেশিন বসানো থাকে) নষ্ট ছিল। তাই দেহরক্ষীরা তাদের অস্ত্র রিসিপশনে রেখে গিয়েছেন।"
বনানীর রেইনট্রি হোটেলে শনিবার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালালে সেখান থেকে কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি। ওইদিন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি তদন্ত টিমও ওই হোটেল পরিদর্শন করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ওই অভিযানের সময়ে ফারজান আরা রিমি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, এই হোটেলে মদ জাতীয় কোন কিছু বিক্রি বা খাওয়া হয়না। শুধু জুস পাওয়া যায়।
এরপর রোববার (১৪ মে) শুল্ক গোয়েন্দাদের একটি দল অভিযান চালালে সেখান থেকে ১০ বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপপরিচালক শফিউর রহমান। তিনি জানান, আমরা হোটেলের বেশ কিছু অনিয়ম দেখতে পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে দেখব। বিদেশি মদের যেসব বোতল জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি হোটেল কর্তৃপক্ষ। এসব স্মাগলিং বলেই প্রমাণিত। এগুলো কারা সরবরাহ করেছে তা খুঁজে বের করা হবে।
শফিউর রহমান বলেন, মাদক যেহেতু পাওয়া গিয়েছে, তাই মাদক দ্রব্য অধিদপ্তর বিষয়টি বিবেচনা করে অবশ্যই মামলা করবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর বনানীর 'দি রেইনট্রি' নামক একটি হোটেলে পূর্ব পরিচিত শাফাত আহমেদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাতভর ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। ওই ঘটনায় গত শনিবার আপন জুয়েলার্সের অন্যতম কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ ও রেগনাম গ্রুপের পরিচালক সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আসামি শাফাত ও সাকিফকে। তারা বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে আছেন। রিমান্ডের আগে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আপনার মন্তব্য