১৭ মে, ২০১৭ ১৩:৩৫
আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ তার দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা সদর দপ্তরে হাজির হয়েছেন।
বুধবার (১৭ মে) বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে ব্যবসায়িক কাগজপত্র নিয়ে তারা হাজির হন।
গত রোববার শুল্ক গোয়েন্দার দল আপন জুয়েলার্সের গুলশান, উত্তরা, মৌচাক ও সীমান্ত স্কোয়ারের শাখায় অভিযান চালিয়ে ২৮৬ কেজি স্বর্ণ ও ৬১ গ্রাম ডায়মন্ড ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুদ রাখার দায়ে তা সাময়িক আটক করে। এগুলো আইন অনুসারে সিলগালা করে তাদের হেফাজতে দেয়া হয়। গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারে অন্য আরেকটি শাখা বন্ধ পাওয়ায় সবার উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি করার নিমিত্তে ওই শাখা সিলগালা করা হয়।
গত ১৫ মে শুল্ক গোয়েন্দার অভিযানে ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুদ স্বর্ণ ও ডায়মন্ড আটকের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিককে শুল্ক গোয়েন্দা সদর দপ্তরে তলব করা হয়। উক্ত তলবে সাময়িকভাবে আটক এই মূল্যবান সামগ্রী সরবরাহের বৈধতা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
একইদিনে দ্য হোটেল রেইনট্রিকে তলব করা হলেও হোটেলটির কর্তৃপক্ষ হাজির হননি। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান হারুনের পক্ষ থেকে উপস্থিত হয়েছেন আইনজীবী এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির ও রিয়াজ আহমেদ।
শুল্ক গোয়েন্দার কাছে আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির বলেন, রেইন ট্রি’র মালিক অসুস্থ থাকায় তলবে উপস্থিত হতে পারেননি। এজন্য শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে এক মাসের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।
তবে শুল্ক গোয়েন্দারা আরও কম সময় দিয়ে আগামী ২৩ মে রেইন ট্রি’র কর্তৃপক্ষকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এসময় আইনজীবীরা ‘রেইন ট্রি’ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একটি রেকর্ড বার্তা গোয়েন্দাদের শোনান।
দ্য রেইনট্রি হোটেলে শুল্ক গোয়েন্দার দল অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে। এই মদ উদ্ধারের সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ বারের লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। অবৈধভাবে বিদেশি মদ রাখার দায়ে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এর আগে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও শাফাত আহমেদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর বনানীর 'দি রেইনট্রি' নামক একটি হোটেলে পূর্ব পরিচিত শাফাত আহমেদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাতভর ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। ওই ঘটনায় গত শনিবার আপন জুয়েলার্সের অন্যতম কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ ও রেগনাম গ্রুপের পরিচালক সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আসামি শাফাত ও সাকিফকে। আর সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হন শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী আজাদ ওরফে রহমত আলী।
আপনার মন্তব্য