২৬ মে, ২০১৭ ০৮:৪৩
সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানোর সময় সংবাদ মাধ্যমের সামনে কাঁদলেন জাস্টিশিয়া ভাস্কর্যটির ভাস্কর মৃণাল হক। এসময় তিনি বারবার দু’হাত দিয়ে তার চোখ মুছছিলেন।
বুধবার (২৫ মে) রাতে ভাস্কর্য সরানোর সময় থেকেই তিনি ভাস্কর্যের পাশে অবস্থান করছিলেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মৃণাল হক জানান, অনেককে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রেসারে (চাপে) আমাকে এটিকে (ভাস্কর্য) সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আমাকেই বলা হয়েছে, চাপ দিয়ে সরাতে বলা হয়েছে। ভাস্কর্যটি আরেকজন সরাতে পারলেও এটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ভাস্কর্যটির নির্মাতা মৃণাল হক বারবার বলছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের সামনের ভাস্কর্যটি গ্রিক দেবী থেমিসের নয়। ভাস্কর্যটি সরানোর সিদ্ধান্তে ব্যথিত চিত্তে তিনি জানান, ‘এ ভাস্কর্য কোনও গ্রিক দেবীর নয়। বরং এটি বাঙলি মেয়ের ভাস্কর্য। যার হাতে বিচারের প্রতীক।’
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সামনে লালনের ভাস্কর্যটিতে আমি দেড়/দুই কোটি টাকা লস খেয়েছি। সরকারই এটা ভেঙেছে আবার সরকারই চুপচাপ থেকেছে। মতিঝিলে বক পাখি নষ্ট করা হয়েছে। এগুলোতো বলতে গেলে বিপদ।
মঙ্গলবার ভাস্কর্য সরানোর বিষয়ে তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে কে বা কারা এই নির্দেশনা দিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমকে তা জানাতে রাজি হননি তিনি।
মৃণাল হক আরো বলেন, আমি আমেরিকায় রাজকীয়ভাবে ছিলাম। সব ফেলে দেশে ফিরে এসেছি। আমরা শুধু দেশকে ভালোবাসি, এটা মুখে বলি। অনেক আর্টিস্ট আমার পেছনে আছে, কনসেপশন(ধারণা) বলে কিছু ছিলোনা। ঢাকায় ২৫টির মত ভাস্কর্য করেছি। অনেকে আর্টিস্ট ক্রিটিসাইজ করে, তারা কেন নিজেদের টাকায় করেনা? তারা কেন আসেনা? তারা ক্রিটিসাইজ (সমালোচনা) করে আমার কাজের। তারা কেন আসেনা?
তিনি বলেন, এই ভাস্কর্যের এখানে গ্রীক মূর্তির কি পাওয়া যায়? এটা বাঙালী মেয়ের ভাস্কর্য। এটি সম্পূর্ণ একটি বাঙালী মেয়ে। শাড়ী, ব্লাউজ পরানো এবং হাতে তালোয়ার দিয়ে সাজানো। এখন কেউ এটাকে সরাতে গিয়ে নষ্ট, চ্যাপ্টা করে ফেলুক তা আমি চাইনা। তাই আমি নিজে নিতে এসেছি।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে গত ডিসেম্বর মাসে এই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন ভাস্কর মৃণাল হক। ডান হাতে নিচের দিকে ধরা একটি তলোয়ার আর বাম হাতে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে দাঁড়ানো নারী। হাইকোর্টের সামনে এই ভাস্কর্যটি স্থাপনের প্রতিবাদে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে হেফাজতে ইসলামসহ দেশের কয়েকটি ইসলামি দল। তাদের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের দেশে সুপ্রিম কোর্টে ‘থেমিসের মূর্তি’ থাকতে পারে না। এছাড়াও জাতীয় ঈদগাহ থেকে এই ভাস্কর্যটি দেখা যায় বলে এটি না সরালে আসন্ন ঈদুল ফিতরে এই ঈদগাহে কেউ ঈদের নামাজ পড়বেন না বলেও ঘোষণা দেয় আওয়ামী ওলামা লীগ। বিষয়টি নিয়ে কোনও ধরনের উত্তেজনা যাতে না ছড়ায় সেজন্য রোজার মাস শুরু হওয়ার আগেই অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সিনিয়র আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের বৃহস্পতিবার বিকেলে ডেকে এ বিষয়ে মতামত শোনেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এরপর তিনি ভাস্কর্যটি সরানোর নির্দেশ দেন।
আপনার মন্তব্য