৩০ জুন, ২০১৭ ০০:১৯
পারিবারিক একটি জমি দখল হওয়া থেকে রক্ষা করতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।
দ্য হিন্দু পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুচবিহার জেলার দিনহাটায় ওই জমিতে অবৈধভাবে মন্দির তৈরি ঠেকাতে এরশাদ মমতাকে চিঠি লিখেছেন।
এরশাদ শেষবার পুর্বপুরুষের ভিটে দেখতে যান গত এপ্রিলে। তার আগেও ২০১৫ সালেও তিনি দিনহাটায় পৈতৃকভিটায় যান।
গতবছর ফেব্রুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে লেখা চিঠিতে সাবেক সেনাশাসক এরশাদ বলেন, ওই জায়গায় বসবাসকারী তার আত্মীয়রা স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানালেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
দ্য হিন্দু পত্রিকাকে এরশাদ বলেন, 'আমার মনে হয় মমতা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন, কারণ এখন কেউ আর আমার স্বজনদের বিরক্ত করছে না। আমার মনে হয় মন্দির নির্মাণের কাজও বন্ধ হয়েছে।'
তবে কুচবিহারে বসবাসকারী এরশাদের ভাতিজা জাকারিয়া হোসেইন জানিয়েছেন, তারা এখনও হুমকির মধ্যে রয়েছেন। পেশায় আইনজীবী জাকারিয়া বলেন, 'এই এলাকার প্রভাবশালী লোকজন জমিটি অধিগ্রহণ করতে চায়। স্থানীয় বয়েজ ক্লাবের মাধ্যমে এই লোকগুলো তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং এর আগে তারা এই জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সামান্য কিছু অর্থ দিতে চেয়েছিলো। আমরা তা গ্রহণ করিনি এবং এখনও পরোক্ষভাবে হুমকি পেয়ে আসছি।'
জাকারিয়া অভিযোগ করেন, ক্লাবের সদস্যদের উদ্দেশ্য এখানে একটা আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা।
এ বিষয়ে দ্য হিন্দুর পক্ষ থেকে কুচবিহারের পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি। আর সেই ক্লাবের সদস্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে দ্য হিন্দু।
পশ্চিমবঙ্গের ওই বাড়িতে থাকেন এরশাদের দুই চাচাতো ভাই এবং তার পরিবারের সদস্যরা। জমির পরিমাণ ৩০ হাজার বর্গফুট। ১৯৪৬ সালে দিনহাটা হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে রংপুর কলেজে ভর্তি হন এরশাদ। দেশভাগের পর তার আর ভারতে ফেরা হয়নি।
আপনার মন্তব্য