সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ জুলাই, ২০১৭ ২২:৪৭

মেলা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন, রথযাত্রা বন্ধের সিদ্ধান্ত আয়োজকদের

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পুলিশ মেলার ব্যবসায়ীদের তুলে দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ঢাকার ধামরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী যশোমাধবের উল্টো রথযাত্রা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজকরা।

রোববার সন্ধ্যায় যশোমাধব মন্দির ও রথ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন রথযাত্রা বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সোমবার উল্টো রথযাত্রা শুরুর কথা ছিল। ধামরাইয়ের বিখ্যাত এই রথযাত্রা দেখতে নানা প্রান্তের মানুষ ছুটে যান। সেখানে মেলাও বসে প্রতিবছর।  

এবার রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে ধামরাই বাজারে বসা মেলার দোকানিদের রোববার সকালে তুলে দেয় পুলিশ। বন্ধ করে দেওয়া হয় সার্কাস, চড়ক গাছ, লটারি ও পুতুল নাচ। সেখানে পুলিশের সঙ্গে টহলে দেখা যায় র‌্যাবকেও।

নন্দ গোপাল বলেন, “আমাদের এই রথটা চারশ বছরের ঐতিহ্য। এবার পুলিশ আমাদের মেলা বন্ধ করে দিয়েছে। যদি মেলাই না হয়, আনন্দই না হয়, তাহলে রথ আমরা টানব না। এটা আমাদের কমিটির সিদ্ধান্ত।”

মেলা বন্ধের কারণ হিসেবে পুলিশ নিরাপত্তার কথা বলে বলে দোকানিরা জানায়। রথে জঙ্গি হামলা হতে পারে বলেও গুঞ্জন ছড়ায়।

পুলিশের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার কথা ধামরাই পৌরসভার মেয়র গোলাম কবীর মোল্লাও জানান। মেয়র কবীর বলেন, “জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে পুলিশ আমাদের সঙ্গে মিটিংও করেছে।”

তবে দুপুরে যোগাযোগ করা হলে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, “জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।”

পুলিশের অস্বীকারের বিষয়ে মেয়র বলেন, “হয়ত এখন নাও হতে পারে, সেটা পুলিশই বলতে পারবে।”

দোকান-পাট বন্ধের বিষয়ে তিনি ধামরাই থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে বলেন এএসপি আজিম।

ধামরাই থানার ওসি মোহাম্মাদ রিজাউল হক বলেন, উল্টো রথের দিন যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য তারা পদক্ষেপ নিয়েছেন।

দোকান বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, “২ ও ৩ তারিখ (রোব ও সোমবার) মেলার দোকান-পাট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

“যেখান দিয়ে রথ টানা হবে, সেই রাস্তার দুই পাশে মেলা বসেছে। ফলে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। রথ টানতে অসুবিধা হবে। তাছাড়া চলাচলরত মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে মেলার দোকান-পাট বন্ধ রাখা হয়েছে।”

রথ টানা শেষ হলে দোকানিরা আবার বসতে পারবে বলে জানান তিনি।

পরমাত্মায় জীবাত্মার মিলনকে ‘চিরমুক্তি’ বলে বিশ্বাস করে সনাতন ধর্মাবলমবীরা, সেই পারলৌকিক মুক্তি কামনায় ভগবানের কৃপা প্রার্থণা করে রথযাত্রার অনুষ্ঠান পালন করে তারা।

আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হল এ উৎসব, আর একাদশী তিথিতে হয় প্রত্যাবর্তন; অর্থাৎ রথটি প্রথম দিন যেখান থেকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, আটদিন পরে আবার সেখানেই ফিরিয়ে আনা হয়। একে বলে ‘উল্টো রথ’।

শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন ফেরার তিথিকে হিন্দুরা রথযাত্রা উৎসব হিসেবে উদযাপন করে।

সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

আপনার মন্তব্য

আলোচিত