সিলেটটুডে ডেস্ক

০৯ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:২৪

রেলের সেই মৃধা জামিনে মুক্ত

১১ দুর্নীতি মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন পূর্ব রেলের সাবেক জিএম ইউসুফ আলী মৃধা। সাড়ে তিন বছর তিনি কারাগারে ছিলেন।

সর্বশেষ দুটি মামলায় রোববার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর রুহুল আমিন মৃধাকে জামিন দিলে রাতেই তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মজিবুর রহমান বলেন, “জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়ার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।”

মৃধার আইনজীবী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “রোববার দুটি মামলা নিয়ে তার বিরুদ্ধে থাকা ১১টি মামলার সবকটিতেই জামিন মঞ্জুর হয়েছে।”

গত জুলাই মাসে পূর্ব রেলের কার্পেন্টার, ডেটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর, ট্রেড অ্যাপ্রেনটিস, রেকর্ড কিপার ও শরীর চর্চা শিক্ষক পদে নিয়োগ দুর্নীতির পাঁচ মামলায় জামিন পান মৃধা। পরে তিনি টুল কিপার, টিকেট ইস্যুয়ার, ট্রেন নম্বর টেকার, সহকারী লোকো মাস্টার পদ নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় জামিন পান। সর্বশেষ রোববার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের গুডস অ্যাসিটেন্ট ও কোর্ট ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় তাকে জামিন দেয় আদালত।

দুদকের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এসব মামলার বাইরে পূর্ব রেলের সহকারী কেমিস্ট ও ফুয়েল চেকার পদে নিয়োগ দুর্নীতির দুটি মামলায় অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল মৃধাসহ তিন আসামিকে দুই বছর করে সাজা দেয় আদালত।

তার আগে গত বছরের ৩ আগস্ট অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় ঢাকার আদালতে মৃধার তিন বছরের সাজা হয়। কিন্তু তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকায় ইউসুফ আলী মৃধার সেসব সাজার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি ১১টি মামলার মধ্যে চারটির বিচার চলছে, পাঁচটিতে দুদক অভিযোগপত্র দিয়েছে এবং দুটি এখনো তদন্তাধীন।

২০১২ সালের ৯ এপ্রিল রাতে ঢাকার বিজিবি সদর দপ্তরে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী ওমর ফারুক তালুকদারকে বহনকারী গাড়িতে বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক তোলাপাড় শুরু হলে সেই গাড়িতে থাকা মৃধাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা ছিল- যা আদায় করা হয় রেলের ‘নিয়োগ বাণিজ্যের’ মাধ্যমে। এরপর ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পূ্‌র্ব রেলের বিভিন্ন পদে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় ১৩টি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকায় একটি মামলা করে দুদক। ২০১৪ সালের ৩ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পন করলে ইউসুফ আলী মৃধাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত