১৫ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:৩০
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার বিরুদ্ধে উত্থাপিত ১১ অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান হবে, এ বিষয়ে সুরাহা না হলে তিনি চেয়ারে বসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার অনুসন্ধান করবে, অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলেও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রোববার দুপুর ১২টায় আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির অসুস্থতা, ছুটি চাওয়া, বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়সংক্রান্ত সব আবেদন ও চিঠিপত্র পড়ে শোনান। তিনি বলেন, এসব আবেদন ও চিঠিপত্রে প্রধান বিচারপতি তাঁর অসুস্থতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ‘কিন্তু বিদেশ যাওয়ার আগে তিনি বলেছেন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাঁর এ বক্তব্যে আমি হতভম্ব।’
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি ছুটি ও বিদেশ যাওয়া নিয়ে বিতর্কের যুক্তিসংগত কোনো কারণ নেই। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বিদেশে যেতে দেওয়া হলো কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, অভিযোগ থাকলে সেটা মামলা–মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়াতে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তিনি এখনো বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি। তাঁকে বিদেশে যেতে দেওয়ায় কোনো অনিয়ম বা নীতিগত সমস্যা হয়নি।
প্রধান বিচারপতি বিদেশযাত্রার প্রাক্কালে তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক বিষয়ে কোনো কাজ করতে পারেন না। এটি সঠিক কি না, তা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি সঠিক নয়। সংবিধানের ৯৭ ধারা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্য আইনসংগত নয়।’
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান বিচারপতির লেখা চিঠির সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেই চিঠি গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছি। সেই চিঠি এবং তাঁর বক্তব্য মিথ্যা নয়। যারা সেটিকে মিথ্যা বলতে চাইছে, সেসব অর্বাচীনকে আমি বলব, মিথ্যা কথা বলা আমার পেশা নয়, অভ্যাসও নেই।’
প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত হলে তাঁর বিচারের প্রক্রিয়া কী হবে? কারণ, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কার্যকর নয় বলে সরকার মনে করে আর সংসদের হাতেও বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা যায়নি। এ ক্ষেত্রে কী হবে, তা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এই অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান হতে হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা হবে। তারপরে প্রশ্ন আসবে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনে যা বলা আছে সেটাই করা হবে।
বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিরল এক বিবৃতি আসার পর নানামুখী আলোচনার মধ্যে এ সংবাদ সম্মেলন করলেন আইনমন্ত্রী।
আপনার মন্তব্য