১৬ আগস্ট, ২০২৪ ১১:১২
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে সদ্য বাতিল হওয়া জাতীয় শোক দিবস ঘিরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন ছিল কার্যত অবরুদ্ধ। সেখানে আগে থেকে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৯তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেকের বিতণ্ডা ও মারামারি হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। অন্তত ১৬ জনকে পুলিশে দেওয়া হয়। অবশ্য পরে তারা ছাড়া পেয়েছেন। সাংবাদিকদের অভিযোগ, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাদের বাধা ছাড়াও দুর্ব্যবহার করা হয়।
এদিকে, বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদনে এসে বাধার মুখে পড়েন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী। এ সময় তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। তবে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে পালিত হয়েছে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি। এতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাতেই প্রশাসন ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের দু’পাশের প্রবেশপথে ব্যারিকেড দেয়। পুলিশ-বিজিবি ছাড়াও মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনীর সদস্য। এর মধ্যেই গতকাল ভোর থেকে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনের সব সড়ক ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। তাদের হাতে থাকা লাঠিতে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বাঁশ ও পাইপ দেখা যায়। তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন যানবাহন ও হেঁটে যাতায়াতকারীদের পরিচয় জানতে চান। পরিচয়পত্র ও মোবাইল ঘেঁটে দেখা হয়। বাস থেকে কেউ ভিডিও অথবা ছবি তুলতে গেলে হেনস্তা করা হয়। অবশ্য ৩২ নম্বর সড়কের প্রবেশমুখে একজন হ্যান্ডমাইকে বলতে থাকেন, ‘দুষ্কৃতকারী কাউকে দেখলে আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।
তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন।’
পূর্ব ঘোষণা দিলেও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কিংবা পদধারী কোনো নেতাকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে দেখা যায়নি। সকাল ৭টার দিকে এক নারীসহ চার সংস্কৃতিকর্মী শ্রদ্ধা জানাতে গেলে তাদের নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের সামনে বেঁধে রাখা হয়। কমপক্ষে পাঁচজনকে কলেজের ভেতরে আটকে রাখা হয়। মারধরের শিকার হন অন্তত ১২ জন। সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়া একজনকে মারধরের পর সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কসংলগ্ন ট্রাফিক মোড়ে ভাঙচুর হওয়া একটি গাড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়। দিনভর অন্তত ১৬ জনকে আটকে রাখা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে গাড়িতে করে নিয়ে যান সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা। ধানমন্ডি থানা পুলিশ তাদের ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
ছবি তোলার সময় দুর্ব্যবহারের শিকার হন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ লিখেছেন, ‘অতীতের মতো ছবি তুলতে বাধা দেওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকতা নিষিদ্ধ করুন।’
কাদের সিদ্দিকীর গাড়ি ভাঙচুর
সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গেলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর গাড়ি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, সেখানে অনেক উত্তেজিত লোকজন দেখলাম, ছাত্রদের দেখলাম। আমাকে বলেছে, আপনি চলে যান, আমি চলে এসেছি। আমার গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা কিন্তু সুন্দর আচরণ করেছে।
শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া মানুষদেরকে বেঁধে পেটানোর নিন্দা জানিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “আমি দেখলাম- কয়েক জনকে বেঁধে রেখেছে। স্বাধীন দেশে কাউকে কোনোখানে বেঁধে রাখা যায়? এটা কোনো মানবিক ব্যাপার না, আমি এর নিন্দা জানাই এবং সরকারকে বলব, এটা বন্ধ করতে হবে।”
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগকেই দায়ী করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রধানতম ভুল ১৬ বছর রাষ্ট্র চালালেও বঙ্গবন্ধুকে দেশের বানাতে পারেননি। শুধু আওয়ামী লীগের বানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কোনো দল, মত, গোষ্ঠী, ব্যক্তি বা পরিবারের হতে পারেন না। দ্রুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গঠিত কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান।
টুঙ্গিপাড়ায় জনতার স্রোত
গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া প্রতিনিধি জানান, জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় জনতার স্রোত নেমেছিল। সকালে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপালগঞ্জ জেলার নেতারা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহাবুব আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাব উদ্দিন আজমের নেতৃত্বে জেলা নেতারা শ্রদ্ধা জানান। গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী বাগেরহাট, নড়াইল ও পিরোজপুর জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং হাজারো মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবির পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদ জানান তারা।
অন্যান্য সংগঠনের আয়োজন
বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীতে বাংলাদেশ জাসদ দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে। পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মুশতাক হোসেন প্রমুখ।
বিকেলে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজধানীর তোপখানা রোডের সংগঠন কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধু স্মরণে আলোচনা সভা করে। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন হাবিবুল আলম, শিবানী ভট্টাচার্য, প্রবীর সরদার প্রমুখ।
আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় সেনাবাহিনীর গাড়ি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার শোকাবহ দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন যারা, তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনকে একটি কলেজে ‘আটকে’ রেখেছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা। পরে তাদের উদ্ধার করে গাড়িতে করে নিয়ে গেছেন সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা। এদিন ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনেকেই হামলার শিকার হয়েছেন; আহতদের অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা শুক্রাবাদ মোড় থেকে ৩২ নম্বর ও মেট্রো শপিংমলের সামনে অবস্থান নেন। লাঠি ও পাইপ হাতে ৩২ নম্বর সড়কে লেকের পাড়ও তারা দখলে রাখেন। তারা বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার জন্য বা আওয়ামী লীগ পরিচয়ে কেউ এলে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একটা সময় যারাই শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সেখানে গেছেন, তাদেরকেই মারধর করা হয়েছে। বিশেষ করে কালো পোশাক বা ব্যাজ পরা কাউকে দেখলে ধাওয়া করা হয়েছে। সন্দেহ হলে মোবাইল ফোনও ঘাঁটাঘাটি করতেও দেখা গেছে।
সকাল ৮টার দিকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা অন্তত ৩০ জন নারী পুরুষের একটি দলকে কিল-ঘুষি মেরে, লাঠিপেটা করে নিউ মডেল কলেজে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। দুপুর পৌনে ১টার দিকে সেনাবাহিনীর চারটি এবং বিজিবির একটি গাড়ি নিউ মডেল কলজের সামনে এসে থামে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গাড়ি থেকে নেমেই হুইসেল বাজিয়ে কলেজের সামনে থাকা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেন। পরে কয়েকজন সেনাসদস্য কলেজের ভেতরে ঢুকে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করে গাড়িতে তোলেন। এর মধ্যে একটি গাড়িতে ৯ জন নারী এবং দুটো গাড়িতে ২০ জনের বেশি পুরুষকে তোলা হয়। এরপর গাড়িগুলোকে পান্থপথের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।
৩২ নম্বর সড়কের সামনে তখন মাইকে ঘোষণা দিতে শোনা যায়, “সকালে আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতকারীরা ৩২ নম্বরের সামনে এসে ঝামেলা করার চেষ্টা করেছিল। ছাত্রজনতা তাদের প্রতিহত করেছে। এখন যাদের ধরবেন, উপযুক্ত প্রমাণ না পেলে কিছুই করবেন না। দুষ্কৃতকারীদের নিউ মডেল কলেজে আটকে রাখবেন।”
আন্দোলনকারীরা ছাড়াও সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও ৩২ নম্বরের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এছাড়া পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মেট্রো শপিংমল মোড়েও সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
সকালে ৩২ নম্বর সড়কের সামনে দিয়ে ঢুকতে না পেরে লেকের পাড় দিয়ে ৩২ এ যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যার্থ হন আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সদস্য জাবের হোসাইন লিখন। বঙ্গবন্ধু ভবনের প্রবেশের চেষ্টা করার সময় লিখনকে মারধর করার অভিযোগ এসেছে। পরে তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। যুবমহিলা লীগের একদল নেত্রী ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরের পাশ দিয়ে ৩২ নম্বরের দিকে আসার চেষ্টা করলের তাদের উপর হামলা চালায় আন্দোলনকারীরা।
ওই দলের আহত এক নেত্রী বলেন, “মারতে মারতে আমাদের একেক জনকে একেক দিকে নিয়ে গেছে। একজনকে তো তুলে নিয়ে গেছে।”
আবাহনী মাঠের পাশ দিয়ে বত্রিশ নম্বরে আসার সমায় মারধরের শিকার হন যুব মহিলালীগের কেন্দ্রীয় এক নেত্রী। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার সামনে আবহানী মাঠের সামনে মোবাইল চেক করে করে অকেককে মারধর করেছে। আমাকে প্রথমে চিনতে পারেনি, পরে কেউ একজন বলে ফেলে যে এ তো যুবমহিলা লীগের নেত্রী, লাঠি দিয়ে আমাকে কয়েকজন যুবক মারধর শুরু করে। পরে কেউ একজন আমাকে ওদের হাত থেকে বাঁচিয়ে পাশে নিয়ে যায়।”
অন্য চিত্র বনানী কবরস্থানে
ঢাকার বনানী কবরস্থানের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই হাতের বাঁ পাশে কবরের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। সেখানে একটি ফলকে ১৮ জনের নাম ও বয়স লেখা। এই সারিতে শায়িত আছেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্য এবং স্বজনরা। ক্ষমতার পালাবদলে শোকাবহ এই দিনে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে নেই কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে অল্প কয়েকজন মানুষ এই কবরস্থানে এসে মোনাজাত করে চলে যান। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে তারা কেউ কোনো কথা বলেননি। এরপর আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদেরর কাউকে কাউকে বিচ্ছিন্নভাবে এসে কবর জিয়ারত করতে দেখা যায়। আবার কেউ এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে চলে গেছেন চুপচাপ।
বঙ্গবন্ধুকে টুঙ্গিপাড়ায় দাফন করা হলেও এই কবরস্থানে তার স্ত্রী ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসেরসহ পরিবারের ১৮ সদস্যকে দাফন করা হয় ওই সময়।
কবরস্থানে পরিচ্ছন্নতার কাজ করা খোরশেদ আলম বলেন, "অন্য বছর এই দিনে মানুষের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা পাওয়া যেত না। কবরস্থানের বাইরে গাড়ির পার্ক করার জায়গা থাকত না, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার হাজার নেতা কর্মীরা এখানে আসতেন। কিন্তু আজ কোনো মানুষের ভিড় নাই। দুয়েকজন বিচ্ছিন্নভাবে এসে কবর জিয়ারত করে চলে যাচ্ছেন। কবরগুলোতে অন্যান্য বছর ফুলের ডালার স্তূপ পড়ে যেত, কিন্তু এবার কবরগুলোতে ফুলই পড়েনি।”
সুনামগঞ্জে একা শ্রদ্ধা জানালেন পৌর মেয়র
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে একাই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ৪৯তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এই শ্রদ্ধা জানান তিনি। শ্রদ্ধা জানানোর পর মেয়র নাদের ধুলা জমে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবি হাত দিয়ে মুছে দেন এবং আবেগ আপ্লুত হয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
মেয়র নাদের বখত বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম বাংলাদেশ থেকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। আমরা আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুর তনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করে যাব। এখন আওয়ামী লীগের দুঃসময়, এখন আমাদের সবাইকে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে শেখ হাসিনার জন্য। যাঁরা পলাতক আছেন, আমি বিশ্বাস করি তাঁরা দ্রুত রাজনীতির মাঠে ফিরে আসবেন। সেই সঙ্গে আমরা মুজিব আদর্শের সৈনিক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাব।’
সিলেটে সাদা কাপড়ে ঢাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, শ্রদ্ধা জানাতে যায়নি কেউ
সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল প্রতিকৃতি এখন সাদা কাপড়ে ঢাকা। শোকাবহ ১৫ আগস্টে আজ (বৃহস্পতিবার) কেউ শোক জানাতেও যায়নি এখানেও। যদিও নির্মাণের পর থেকে প্রতিবছর ১৫ আগস্টে এই মুর্যালে শ্রদ্ধা নিবেদনের ভিড় লেগে যেতো।
২০২০ সালের ১৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর এই ম্যুরালের উদ্বোধন করেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এরপর থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকীতে এখানেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ । তবে এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে এই ম্যুারলে কেউ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাননি। এমনকি সিলেট আওয়ামী লীগের কোনো নেতা কর্মীও বঙ্গবন্ধুর মুর্যালে ফুল দিয়ে যাননি।
বৃহস্পতিবার ( ১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকাস্থ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল সুনশান নিরবতা। বর্তমান অর্ন্তবর্তিকালীন সরকার জাতীয় শোক দিবসের ছুটি বাতিল করার কারণে বৃহস্পতিবার এখানে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, সিলেট বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কেউ এই ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেননি। এমনকি বঙ্গবন্ধুর ৪৯তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেননি।
আপনার মন্তব্য