সিলেটটুডে ডেস্ক

০৫ মে, ২০১৬ ২৩:৪৯

দেশকে নিয়ে কাউকে খেলতে দেব না, সংসদে প্রধানমন্ত্রী

‘অনেকে চাইবে, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস আছে দেখিয়ে দেশটাকে নিয়ে খেলতে। আমি বেঁচে থাকতে এই দেশকে নিয়ে কাউকে খেলতে দেব না’  বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাটিতে কোন জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের স্থান নেই। অনেকেই চেষ্টা করবে জঙ্গি আছে বলে এই দেশটাকে নিয়ে খেলা করার। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে কাউকে এই দেশ নিয়ে খেলতে দিবো না। ইউনিয়ন উপজেলা ও জেলাসহ যে যেখানে আছেন সজাগ থাকবেন। কারো ছেলে-মেয়ে যেন এই ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার সাথে যুক্ত হতে না পারে। ইমামদের প্রতি আহ্বান জানাই, জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করবেন।

আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশে রয়েছে বলে প্রমাণ করার চক্রান্তের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) জাতীয় সংসদে সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের জঙ্গিরা বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বলার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার দশম সংসদের দশম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে একথা বলেন তিনি।

গত এক বছর ধরে লেখক, প্রকাশক, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, বিদেশি, যাজক, পুরোহিত হত্যাকাণ্ডের বেশ কয়েকটি ঘটনায় আইএস ও আল কায়দার নামে দায় স্বীকারের বার্তা আসে।

আইএস ও আল কায়দার পাশাপাশি তালেবান যেসব দেশে অস্তিত্বশীল, সেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের নজির রয়েছে।

বাংলাদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইন্টারনেটে আসা এসব দায় স্বীকারের বার্তাকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়ে সরকার বলছে, দেশি জঙ্গিরাই খুন করে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর নামে বার্তা ছড়াচ্ছে।

সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি দেখতে ঢাকায় আসা যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী মন্ত্রী বিসওয়াল বৃহস্পতিবার বলেন, বাংলাদেশি জঙ্গিরা বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলছে বলে তার সন্দেহ করছেন।

গত ২৫ এপ্রিল ঢাকার কলাবাগানে বাড়িতে জুলহাজ ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে কুপিয়ে হত্যার পর আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার নামে বার্তা এসেছিল।

তবে পুলিশ বলছে, নিষিদ্ধ বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিম এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তারা ধারণা করছে।  

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনে তিনি আরো বলেন, আমি আমার ছেলে মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলেছি, আপনার (খালেদা জিয়া) ছেলেদের মতো দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী চোর-চোট্টা বানাইনি। দেশের সেবা করা শিখিয়েছি। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের যেসব কর্মকাণ্ড সব জয়’র কাছ থেকেই নেওয়া। আমি মা হয়ে তার কাছ থেকে শিখছি।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের সেরা দুর্নীতিবাজদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়, সেখানে বিএনপি নেত্রীর ছেলের নাম এসেছে। তারা দুর্নীতি করেছে বলেই ভাঙা সুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জির মালিক হয়েও শত শত কোটি টাকার মালিক হতে পেরেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকতে গ্রেনেড হামলাসহ অনেক চেষ্টা করেও আমাকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়ে এখন আমার ছেলেকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিএনপি নেত্রী জয় সম্পর্কে মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন। বিএনপি নেত্রীকে বলবো- জয় (সজীব ওয়াজেদ জয়) আপনাকে যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে তা গ্রহণ করে প্রমাণ করুন।

প্রধানমন্ত্রী এসময় যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই’র কর্মকর্তাকে বিএনপি নেতার ঘুষ দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, আমাকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়ে এখন আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করছে।

সন্ত্রাস দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন, “আমাদের এই মাটিতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের স্থান নেই ... সন্ত্রাস দমনে যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি।”

ধর্মের নামে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে হত্যা করে বেহেশতে যেতে পারবে না, দোজখে যেতে হবে। কারণ, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম হত্যার লাইসেন্স দেয় না।”

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন দেশটা ছিল হত্যা-খুন, দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের দেশ।”

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারা অনেক মানুষকে গৃহহারা করেছে। কত মেয়ে গ্যাং রেইপ হয়েছে।”

বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদকে দেখিয়ে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, “এখানে উপস্থিত মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাও তাদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদেরকে সে সময় জেলে পুরে রাখা হয়েছিল।”

প্রধানমন্ত্রী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও সাংসদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নিজের উপর ২০০৪ সালের ২১ অগাস্টের হামলার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বেঁচে গেলেও আমাদের নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন মারা গেছেন।”

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

“২০১৩ সালে সরকার উৎখাতের নামে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছিল। ২০১৪ ও ১৫ সালে প্রায় পাঁচশর কাছাকাছি মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। প্রায় দুই হাজার মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। প্রায় আড়াই হাজার বাস-ট্রাক ও রেল পুড়িয়েছে।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত