সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

০৮ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:১২

ধর্ষণ-বর্বরতা প্রতিরোধে সিলেটে থিয়েটার কর্মীদের শপথ

ধর্ষণ-বর্বরতা প্রতিরোধে সিলেটে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে শপথ গ্রহণ করেছেন সিলেটের নাট্য ও সংস্কৃতিকর্মীরা। দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারীর প্রতি বর্বরতার প্রতিবাদে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই অনুষ্ঠান হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে একটানা প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সংহতি প্রকাশ করা হয়। গ্রাম থিয়েটার সিলেট বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সহযোগিতা করে গ্রাম থিয়েটার ওসমানী অঞ্চল। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার সিলেট বিভাগের সমন্বয়কারী রজত কান্তি গুপ্ত।

ওসমানী অঞ্চলের সমন্বয়কারী সৈয়দ সায়মুম আন্জুম ইভানের সঞ্চালনায় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক আয়োজনে ধর্ষণ-বর্বরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শপথবাক্য পাঠ করান সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমেদ চৌধুরী মিশু।

সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মোকাদ্দেস বাবুল, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ রেনু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলম সেলিম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এনামুল মুনীর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাবেক সভাপতি খোয়াজ রহিম সবুজ, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদ, সিলেট জেলার সভাপতি সংস্কৃতিকর্মী ইন্দ্রানী সেন, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, সিলেট বিভাগের সাধারণ সম্পাদক নিলাঞ্জনা যুঁই, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য তনু দীপ প্রমুখ।

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন- মৃত্তিকায় মহাকাল, নৃত্যশৈলী সিলেট, নাট্যমঞ্চ সিলেট, থিয়েটার মুরারীচাঁদ, নাট্যালোক সিলেট, নবশিখা নাট্যদল, অন্বেষা শিল্পীগোষ্ঠী, মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠন ও তারণ্য সিলেট’র শিল্পীবৃন্দ। একক পরিবেশনায় ছিলেন- গণসংগীত শিল্পী অংশুমান দত্ত অঞ্জন, সংগীতশিল্পী পল্লবী দাস মৌ, কনক আচার্য্য, নাট্যশিল্পী রেজাউল করিম রাব্বী, নৃত্যশিল্পী শাহজাদা নাহিয়ান চৌধুরী, নাট্যশিল্পী সাহিদা বিনতে হাসান প্রমুখ।

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। তারা বলেন, সমাজে এক শ্রেণির মানুষ ধর্ষক ও নারী নির্যাতনকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। তারা দেশ ও সমাজের শত্রু। ধর্ষণ-বর্বরতার বিরুদ্ধে গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় সর্বত্র এসমস্ত নরপশুদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা সাংস্কৃতিক জাগরণের মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে এসমস্ত বর্বরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনকারীদের যারা প্রশ্রয়-আশ্রয় দিবে তাদেরকে সরকার কঠোর আইনের মাধ্যমে দমন করবে বলে আমরা আশা করছি।

দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ধর্ষক-নির্যাতনকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতের দাবি জানান বক্তারা।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত