১৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৫:৪৫
কাতার বিশ্বকাপে রূপকথা এরই মধ্যে লেখা হয়ে গেছে মরক্কোর। প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা তার পূর্ণতার। বেলজিয়াম, পর্তুগাল, স্পেনকে মাটিতে নামানোর পর এবার তাদের সামনে ফ্রান্স। অ্যাটলাস লায়ন্সরা কি পারবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ওপর থাবা বসিয়ে সাফল্যের গর্জন তুলতে? সেমিফাইনালের ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১টায়।
অবশ্য মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কও আলাদা করে প্রভাব রাখছে। এই মরক্কো এক সময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। কাছের দেশ হওয়ায় ফ্রান্সে মরক্কোন অভিবাসীও কম নয়। সেই কারণেই কিনা কাতারে মরক্কোর অবিশ্বাস্য সব জয়ে ফ্রান্সের রাজপথে তাদের মিছিল করতে দেখা গেছে।
তবে দুই দলের শক্তি বিবেচনায় নিলে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখতে হবে। পার্থক্যটা এখানে ফ্রান্সের আক্রমণ বনাম মরক্কোর প্রতিরোধ। এখন পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের একটিও গোল হজম করেনি মরক্কো। একটি গোল হজম করেছে শুধু আত্মঘাতী থেকে।
রূপকথার এই অভিযাত্রায় মরক্কো কোচ তো নিজেদের তুলনা করছেন রকি বালবোয়ার সঙ্গে। সিলভেস্টার স্ট্যালন অভিনীত বিখ্যাত ছবি রকির মূল চরিত্র এটি। সেই ছবির চরিত্রের সঙ্গেই নিজেদের মিল খুঁজে নিচ্ছে মরক্কোনরা। এ যেন অখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা রকি বালবোয়ার মতো হাঠৎ পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসার মতো ব্যাপার। তাইতো মরক্কো কোচ ওয়ালিদ রেগরাগি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের মহাদেশ ও দেশের মানুষকে গর্বিত করেছি। আপনারা রকি দেখলে বুঝবেন যে আপনি রকি বালবোয়াকেই সমর্থন করছেন। এবং আমি মনে করি আমরা এই বিশ্বকাপের রকি বালবোয়া।’
অপর দিকে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম মনে করেন এই সমর্থনই মরক্কোর সুবিধা দিচ্ছে বেশি। সেমির ম্যাচে যে প্রতিকূল একটা আবহ থাকবে সেটার জন্য তারা নিজেরাও প্রস্তুত, ‘আমার মনে হয় বিশাল সমর্থন থেকে ওরা অনেক সুবিধা পাচ্ছে। আমি নিজেও সেটা দেখেছি। ফলে বলা যায় আবটা প্রতিকূল থাকবে। আমরা তার জন্য প্রস্তুতও।’
এক নজরে:
*নিজেদের প্রথম তিন সেমিফাইনালের প্রতিটি আসর থেকেই বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স (১৯৫৮, ১৯৮২ ও ১৯৮৬)। তার পর অবশ্য বাকি তিন সেমিফাইনাল জিতে ফাইনালে পৌঁছাতে পেরেছে (১৯৯৮, ২০০৬ ও ২০১৮)।
* দুই দলের লড়াইয়ে তিনটি জয় ফ্রান্সের। ড্র ও হার একটি। সর্বশেষ প্যারিসে ২০০৭ সালে দুই দলের ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল।
* ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পর ফ্রান্সের সামনে ব্যাক টু ব্যাক ফাইনালিস্ট হওয়ার হাতছানি। টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড শুধু ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) ও ব্রাজিলের (১৯৫৮, ১৯৬২)।
আপনার মন্তব্য