স্পোর্টস ডেস্ক

২২ ফেব্রুয়ারি , ২০২৩ ১২:৪৮

২ গোল খেয়ে লিভারপুলকে ৫ গোল দিল রিয়াল মাদ্রিদ

ম্যাচ শুরুর ৪ মিনিটের মাথায় গোল, এরপর আবার গোল; চৌদ্দ মিনিটে মাথায় অ্যানফিল্ডে দুই গোল খেয়ে বসল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচ বুঝি এখানেই শেষ! কিন্তু না, দলটা যে রিয়াল মাদ্রিদ; প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে জুড়ি নেই যাদের। এরপর একে একে পাঁচ গোল করে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে বড় জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা।

মঙ্গলবার রাত লিভারপুলের জন্যে ছিল কার্যত দুঃস্বপ্নের। প্রথমে ২ গোল করেও ৫ গোলে হারতে হলো তাদের। রিয়ালের পক্ষে জোড়া গোল করেছেন করিম বেনজেমা ও ভিনিসিয়াস জুনিয়র, অপর গোলটি এদের মিলিতাওর। লিভারপুলের পক্ষে গোল করেছেন ডারউইন নুনিয়েজ ও মোহাম্মদ সালাহ।

ম্যাচের বয়স তখন ৩ মিনিট ১১ সেকেন্ড। স্তেফান বাফেতিচের দারুণ পাস গোলমুখে বাড়ান সালাহ, বল পেয়ে দুর্দান্ত ব্যাকহিলে নুনিয়েজ যে গোল করলেন সেটা ফুটবল সমর্থকদের অনেকদিন মনে থাকবে। এরমাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে লিভারপুলের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়লেন নুনিয়েজ। ১৮ বছর ১২২ দিন বয়সে এই রেকর্ড গড়লেন নুনিয়েজ।

ম্যাচের ১৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে লিভারপুল। দানি কারবাহলের ব্যাক পাস পেয়েছিলেন কোর্তোয়া। বল ঠিকঠাক মারতে গিয়ে হাঁটু দিয়ে গুঁতো মেরে বসেন। সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা সালাহ বলের নাগাল পেতেই বাঁ পায়ের শটে গোল করে ইউরোপে লিভারপুলের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন। পেছনে পড়লেন ক্লাব কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ড।

এরপর কেবলই রিয়াল মাদ্রিদের আধিপত্য আর গোল উৎসবের গল্প। ম্যাচের ২১তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে লিভারপুলের বক্সে ঢুকে করিম বেনজেমাকে বলটা একটু ধার দিয়ে ফিরতি পাসেই লিভারপুলের তিন ডিফেন্ডারের মাঝ থেকে বাঁকানো শট নেন ভিনিসিয়াস। চোখ ধাঁধানো এক গোল। এরপরই চোখ ধাঁধানো এক ভুল!

৩৬তম মিনিটে ম্যাচে আসে সমতা। গোলকিপার আলিসনকে ব্যাক পাস দেন ডিফেন্ডার জো গোমেজ। ভিনিসিয়াস চাপ সৃষ্টি করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। আলিসন গোমেজকে ফিরতি পাস দিতে গিয়ে বল মেরে বসেন ভিনিসিয়াসের গায়ে। বলটা আলিসনের পাশ দিয়ে শূন্যে উড়াল দিয়ে একটা বাউন্স খেয়ে জালে জড়াল!

বিরতির পর লিভারপুল ঠিকমতো গুছিয়ে নেওয়ার আগেই ফ্রি কিক পায় রিয়াল। ৪৭তম মিনিটে পাওয়া সেই ফ্রি কিক থেকে মিলিতাওয়ের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

৫৫তম মিনিটে রদ্রিগোর পাস থেকে গোলে শট নেন বেনজেমা। গোমেজের উরুতে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। আলিসনের কিছুই করার ছিল না।

৬৭তম মিনিটে প্রতিআক্রমণে মদ্রিচ থেকে ভিনিসিয়াস, এরপর ফন ডাইকের পায়ের ভেতর দিয়ে ব্রাজিলিয়ানের পাস, আলিসনকে একা পেয়ে সেই পাস থেকে বেনজেমা গোল করে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।

গতবারের এ দুই ফাইনালিস্ট সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ১৬ মার্চ ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত