স্পোর্টস ডেস্ক

১৮ মে, ২০২৩ ১০:১১

ইতিহাদে বিধ্বস্ত রিয়াল, স্বপ্নের ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটি

ছবি: রয়টার্স

ইতিহাসে প্রথমবারের মত ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় থেকে হাত-ছোঁয়া দূরত্বে এখন ম্যানচেস্টার সিটি। প্রতিযোগিতার ইতিহাসের সেরা দল রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে তারা পৌঁছেছে স্বপ্নের ফাইনালে।

সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর নিজেদের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদকে বিধ্বস্ত করেছে তারা ৪-০ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ গোলে অগ্রগামিতায় তারা ফাইনালে, যেখানে তাদের জন্যে অপেক্ষা করছে ইন্টার মিলান।

ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন বের্নাদো সিলভা। একটি করে গোল আত্মঘাতী আর অপর গোলটি হুলিয়ান আলভারেজের।

শুরু থেকেই রিয়াল মাদ্রিদকে চেপে ধরেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। প্রথম মিনিটেই যায় আক্রমণে। ৭ম মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনা-হলান্ডের বোঝাপড়ায় দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেছিল সিটি। কিন্তু সেই আক্রমণে গোল আসেনি। গোল না পেলেও রিয়ালকে রীতিমতো কোণঠাসা করে আক্রমণের ঝড় বয়ে দেয় সিটি। ১৩ মিনিটে তেমনই এক আক্রমণে বাঁ প্রান্ত দিয়ে জ্যাক গ্রিলিশ দারুণভাবে বল বাড়ান হালান্ডের উদ্দেশে। কাছাকাছি জায়গা থেকে হালান্ডের হেডে কোর্তোয়া অসাধারণ দক্ষতায় বল ঠেকিয়ে দেন।

২১তম মিনিটে ফের কোর্তোয়ার অসাধারণ সেভ। আবার হালান্ডের নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান এ বেলজিয়ান গোলরক্ষক।

একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা রিয়াল অবশেষে ভেঙে পড়ে ম্যাচের ২৩তম মিনিটে। ডি ব্রুইনার পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে বুলেট গতির শটে কোর্তোয়া বাধা পার করেন বের্নার্দো সিলভা।

প্রথম আধ-ঘণ্টা কেবলই ম্যানচেস্টার সিটি-শো। ৩২তম মিনিটে প্রথমবারের মতো বল নিয়ে সিটি ডি-বক্সে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে পড়েছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। যদিও কাইল ওয়াকার ঠিকই রুখে দেন ভিনিকে।

৩৫তম মিনিটে ডি-বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে টনি ক্রুসের রকেট শট বারে লেগে ফিরে আসলে হতাশ হতে হয় রিয়ালকে।

৩৭তম মিনিটে ফের এগিয়ে যায় সিটি। ইলকাই গুন্দোয়ানের শট মিলিতাওয়ের গায়ে লেগে ফিরে আসলে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে যান সিলভা। হেডে বলকে দ্বিতীয়বারের মতো জালের ঠিকানা দেখাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডারকে।

বিরতির পর ফ্রি-কিক থেকে ডেভিড আলাবার শট আঙুলের স্পর্শে বাইরে পাঠান এদেরসন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচ অবশ্য প্রথমার্ধের মতো একপেশে ছিল না। সিটির আক্রমণের জবাব প্রতি-আক্রমণ দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল রিয়াল। বলের দখলেও সিটির ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলার চেষ্টা করছিল রিয়াল। বল নিয়ে একাধিকবার সিটির রক্ষণে হানাও দেয় তারা। কিন্তু স্বাগতিক রক্ষণ ভেঙে গোল পাওয়ার আসল কাজটি করতে পারছিল না তারা।

৭৩তম মিনিটে হলান্ডের শট কোর্তোয়ার পায়ে না লেগে বারে না লাগলে প্রাপ্য গোলটি পেয়েও যেতে পারতেন এ স্ট্রাইকার। এ ম্যাচে অন্তত তিনবার হালান্ডকে নিশ্চিত গোল পাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছেন কোর্তোয়া। হালান্ড না পারলেও তৃতীয় গোল পেতে সমস্যা হয়নি সিটির। ডি ব্রুইনার ফ্রি-কিকে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে সিটিকে তৃতীয় গোলটি এনে দিতে সাহায্য করেন এদের মিলিতাও; আত্মঘাতী গোল।

এরপর শেষ দিকে সিটির হয়ে আরেকটি গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন হুলিয়ান আলভারেজ। বেঞ্চের নিয়মিত হয়ে যাওয়া আলভারেজকে মাঠে নামান কোচ ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে। প্রথম টাচে পেয়ে যান কাঙ্ক্ষিত গোলও।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত