স্পোর্টস ডেস্ক

০৬ জুলাই, ২০২৫ ১২:৩০

যোগ করা সময়ের চরম নাটকীয়তা, ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ

শাবি আলান্সোর অধীনে প্রতি ম্যাচে উন্নতি করছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড রিয়ালের বিপক্ষে নির্ধারিত নব্বই মিনিট কোন প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যখন সেমিফাইনালের পথে দৃঢ়ভাবে এগুচ্ছিল রিয়াল, তখনই নাটকের শুরু।

যোগ করা সময়ে হলো তিন-তিনটা গোল, সঙ্গে লালকার্ড; আর শেষ সেকেন্ডে দেখা গেল থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তা।

একটি গোল শোধ করে রোমাঞ্চ ছড়াল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। পরক্ষণেই দুর্দান্ত এক গোলে দুই গোলের ব্যবধান পুনরুদ্ধার করলেন কিলিয়ান এমবাপে। নাটকীয়তার তখনও অবশ্য ঢের বাকি। পরের মিনিটে লাল কার্ড দেখলেন ডিন হাউসেন এবং পেনাল্টি থেকে আরেক গোল করল ডর্টমুন্ড। একেবারে অন্তিম মুহূর্তে দারুণ এক সেভ করে রিয়ালকে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে তুললেন থিবো কোর্তোয়া।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালে ৩-২ গোলে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

গন্সালো গার্সিয়ার গোলে শাবি আলোন্সোর দল এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফ্রান গার্সিয়া। মাক্সিমিলিয়ান ব্যবধান কমানোর পর রিয়ালের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপে। শেষ মিনিটে ডর্টমুন্ডের শেষ গোলটি করেন সেগু গিগাসি।

দশম মিনিটে আর্দা গিলের দারুণভাবে বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সে পেয়ে, জায়গা বানিয়ে সাইড-ফুট ভলিতে গোলটি করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

এই টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচে এবং পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ গোলটি করলেন রিয়ালের যুব দল থেকে উঠে আসা গার্সিয়া।

১০ মিনিট পর আরেক গার্সিয়ার গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউরোপের সফলতম দলটি। ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার ফ্রান গার্সিয়া।

২-০ গোলে এগিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ যখন নিশ্চিত জয়ের সুবাস পাচ্ছে, তখনই শুরু হয় নাটকীয়তা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বড় ভুল করে বসেন আন্টোনিও রুডিগার; বল ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়েও উল্টো প্রতিপক্ষের পায়ে তুলে দেন তিনি। প্রতিপক্ষের ওই উপহার পেয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি মাক্সিমিলিয়ান।

এরপর পাল্টা আক্রমণে আর্দা গিলেরের দারুণ ক্রস ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে, অ্যাক্রোবেটিক ওভারহেড কিকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন ফরাসি তারকা এমবাপে।

দুই মিনিটের মাথায় ডি-বক্সে সেগু গিগাসিকে পেছন থেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ডিন হাউসেন। আর ওই পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করেন গিনির ফরোয়ার্ড গিগাসি।

ম্যাচে তথন মোটে এক মিনিটের মতো খেলা বাকি। লড়াই অতিরিক্ত সময়ে নেওয়ার লক্ষ্যে শেষ চেষ্টায় ওঠে ডর্টমুন্ড, তাতে প্রায় সফলও হয়ে গিয়েছিল তারা, জোরাল শট নেন মার্সেল সাবিৎজার, ডান দিকে লাফিয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল গ্লাভসে নিয়ে দলকে স্বস্তি এনে দেন কোর্তোয়া।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী পিএসজির মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত