৩০ জুলাই, ২০১৬ ১৮:০৬
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো শ্রীলংকা। টেস্ট ক্রিকেটের অবিসংবাদিত অধিপতি অস্ট্রেলিয়া। র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে। আর শ্রীলংকা বলতে গেলে পুরোটাই ভাঙা হাট। কোন তারকা নেই। কোনমতে ক্রিকেটে টিকে থাকাই যেন তাদের লক্ষ্য। র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান! সাত নম্বরে।
সেই অস্ট্রেলিয়াকেই পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে হারিয়ে দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলো অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজের দল। স্টিভেন স্মিথের দলকে তারা হারিয়েছে ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এ নিয়ে নিজেদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট জিততে পারলো শ্রীলংকা।
একা ব্যাট হাতে এক কুশল মেন্ডিস আর বল হাতে রঙ্গনা হেরাথের ঘূর্ণির কাছেই পরাজয় বরণ করতে হলো অসিদের। দ্বিতীয় ইনিংসে কুশল মেন্ডিসের ব্যাটেই শ্রীলংকা ঘুরে দাঁড়ায়। ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরিই নয় শুধু, ১৭৬ রান করে লংকানদের জয়ের ভিত রচনা করেন তিনি।
এরপর জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া যখন ২৬৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামে রঙ্গনা হেরাথ আর লক্ষ্মণ সান্ধাকানের ঘূর্ণির মুখে পড়ে স্টিভেন স্মিথের দল। ফলে মাত্র ১৬১ রানেই অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা।
১৯৯৯ সালে স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবারের মত হারিয়েছিল শ্রীলংকা। সেটা অবশ্যই নিজেদের মাটিতে। সেবার অসিদের প্রথম টেস্টে হারানোর পর বাকি টেস্টগুলো ভেসে যায় বৃষ্টিতে। ফলে সিরিজও জেতে শ্রীলংকা। এরপরই টানা ১৬টি টেস্ট জিতে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়া। মুত্তিয়া মুরালিধরন, চামিন্দা ভাস, জয়াবর্ধনে, সাঙ্গাকারা কিংবা জয়সুরিয়া পারেনি অস্ট্রেলিয়াকে আর হারাতে। অবশেষে নিজেদের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয়বারের মত হারালো শ্রীলংকা।
অথচ, এখন শ্রীলংকা দলটিতে সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনেদের কেউ নেই। তবুও তারা অস্ট্রেলিয়ার মত দলকে হারিয়ে দিল! পাল্লেকেলেতে যেভাবে টেস্ট শুরু হয়েছিল, তাতে মনে হচ্ছিল ৩দিনেই সম্ভবত ম্যাচ জিতে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দিন টস জিতে মাত্র ৩৪.২ ওভারে ১১৭ রানে অলআউট শ্রীলংকা। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া অলআউট ২০৩ রানে। তবুও, তাদের লিড দাঁড়ালো ৮৬ রানের।
দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতে যেভাবে উইকেট হারানো শুরু করেছিল লংকানরা, তাতে ইনিংস পরাজয় না হোক, বড় ব্যবধানে পরাজয়ই দেখতে শুরু করেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু তৃতীয় দিনে এসে অবিশ্বাস্যভাবে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে দাঁড়িয়ে যায় কুশল মেন্ডিস। ১৬৯ রানে তৃতীয় দিন অপরাজিত থাকেন তিনি এবং লংকানদের ১৯৬ রানের লিড এনে দেন।
চতুর্থ দিন নিজের ইনিংস আর বেশি লম্বা করতে পারেননি কুশল। আউট হয়ে যান আর মাত্র ৭ রান যোগ করে। অর্থাৎ ১৭৬ রানে। তবে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, রঙ্গনা হেরাথদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫৩ রানে অলআউট হয় শ্রীলংকা এবং তাদের লিড দাঁড়ায় ২৬৭ রান।
জয়ের জন্য ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন বিকালেই ৬৩ রানের মাথায় ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ৩ উইকেটে ৭২ রান নিয়ে পঞ্চম দিন শুরু করে অসিরা। অ্যাডাম ভোজেস ১২, মিচেল মার্শ ২৫ এবং স্টিভেন স্মিথ ৫৫ রান করেন। বাকিদের কেউই আর দুই অংকের ঘর ছুঁতে পারেননি। যদিও শেষ দিকে ৩১ ওভার ব্যাট করে মাত্র ৪ রান করেন স্টিভেন ও’কেফি এবং পিটার নেভিল। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৬১ রানেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। দিনের তখনও বাকি ছিল ২৮ ওভার।
রঙ্গনা হেরাথ ৫৪ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। লক্ষ্মণ সান্ধাকান নেন ৩ উইকেট। দিলরুয়ান পেরেরা এবং ধনঞ্জয়া ডি সিলভা নেন ১টি করে উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে রঙ্গনা হেরাথ ৯ উইকেটের পাশাপাশি ৪১ রান করলেও ১৭৬ রান করে শ্রীলংকাকে টেস্টে বাঁচিয়ে রাখার পুরস্কার হিসেবে ম্যাচ সেরা হয়েছেন কুশল মেন্ডিস।
আপনার মন্তব্য