২৪ মার্চ, ২০১৫ ১৮:১৭
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে এটা বলবে রেকর্ডবই কিন্তু আসলে কী তাই? দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এক দক্ষিণ আফ্রিকানের কাছেই আদতে হেরেছে তারা।
হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! গ্রান্ট এলিয়ট, নিউজিল্যান্ডের মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান যার জন্ম আর বেড়ে ওঠা সব কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায়ই। এমনকি খেলেছেনও দক্ষিণ আফ্রিকার বয়সভিত্তিক দলে। দক্ষিণ আফ্রিকা তো আসলে নিজের কাছেই হেরেছে। নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচ জেতানো গ্রান্ট ইলিয়ট কোনো কিউই নন, জন্ম-বেড়ে ওঠা সূত্রে আপাদমস্তক দক্ষিণ আফ্রিকান।
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু নাগরিকত্বে! ডেল স্টেইনকে ছক্কা মেরে কিউইদের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠানো ইলিয়ট হতে পারতেন আফ্রিকান দলেরই খেলোয়াড়। একসময় দক্ষিণ আফ্রিকা অনুর্ধ্ব ১৯ দলের হয়েও খেলতেন। এমনকি প্রোটিয়াদের 'এ' দলের হয়ে খেলেছেন ভারত 'এ' দলের বিপক্ষেও। এ
র সবই ২০০১ সালের আগে। ১৯৭৯ সালে জোহানেসবার্গে জন্ম নেওয়া ইলিয়ট ওই বছরই চলে যান নিউজিল্যান্ডে। মূলত ক্রিকেটের জন্যই দেশ ছেড়েছিলেন।
সেই ক্রিকেটের সুবাদেই ২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব পান। আর এখন কিউইদের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ইডেন পার্কে কব্জির জোরে ৭৩ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলে প্রায় একা-ই হারিয়ে দিয়েছেন জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকাকে! তা দক্ষিণ আফ্রিকান ইলিয়ট কীভাবে নিউজিল্যান্ডের হয়ে গেলেন?
দক্ষিণ আফ্রিকা অনুর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে ভালোই খেলছিলেন। ১৯৯৭ সালে ইংল্যান্ড অনুর্ধ্ব ১৯ দলের বিপক্ষে ২০১ রানের অনবদ্য এক ইনিংসও খেলেছিলেন।
তবে ভালো খেললেও জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন তার উজ্জ্বল হয়নি, বরঞ্চ মিইয়ে যাচ্ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে খেলোয়াড় অন্তুর্ভুক্তিতে চালু থাকা কোটা ব্যবস্থার কারণে নিজের ভবিষ্যত ভালো দেখছিলেন না। ওইসময় নিউজিল্যান্ড টেস্ট অধিনায়ক কেন রাদারফোর্ড তাকে পরামর্শ দেন ক্রিকেট ক্যারিয়ারের জন্য নিউজিল্যান্ডে চলে যেতে।
তারপর থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার নয়, গ্রান্ট ইলিয়ট নিউজিল্যান্ডের। আর বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকানদের হারিয়ে বিদায় করে দেওয়ার গল্প ত মাত্রই মঞ্চস্থ হলো!
আপনার মন্তব্য