সিলেটটুডে ডেস্ক

০৯ আগস্ট, ২০১৬ ১৮:৩৪

মাদ্রাসা ছাত্রী থেকে অলিম্পিকের সুইমিংপুলে সোনিয়া

ঝিনাইদহের এক মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে পরে আনসারে যোগ দেয়া সোনিয়া আক্তার চলে গেলেন গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ অলিম্পিকে। বর্তমানে ৭ সদস্যের বাংলাদেশ দলের হয়ে ব্রাজিলের রিওতে আছেন সোনিয়া।

সোনিয়ার বাবা অভাবের তাড়নায় এক সময় পান বিক্রি করে সংসার চালাতেন। সেকারণে মেয়ে বড় কোন স্কুলে পড়াতে পারেননি। তবে সোনিয়ার ভেতর শুরু থেকেই ছিল সাঁতারের নেশা। এই নেশা তাকে নিয়ে গেল অনেক উচ্চতায়।

এখন দিন বদলেছে। সোনিয়ার বাবাও সেই হাটখোলা বাজারেই এখন বড়সড় মুদি দোকান দিয়েছেন। বাড়িতে উঠেছে পাকা ঘর। আর এ সব সম্ভব হয়েছে মেয়ে সাঁতারু সোনিয়া আক্তারের সুবাদে।

সোনিয়ার বাড়ি ঝিনাইদহ শহরতলীর ভুটিয়ারগাতিতে। সোনিয়া ওই গ্রামের মাদরাসায় আলিম পড়ছেন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশে আনসারের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর এ বছর সোনিয়া স্থায়ী চাকরি পেয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে।

মেয়ে সোনিয়াকে নিয়ে প্রায়ই প্রতিবেশীদের তিরস্কার শুনতে হতো বাবা আনিসুরকে। প্রতিবেশীরা বলতো, মেয়ে মানুষ, সাঁতার শিখিয়ে কী হবে। কিন্তু বাবা আনিসুর কখনই মেয়ে সোনিয়াকে বাঁধা দেননি। ফলে কাল পরিক্রমায় সোনিয়া ঝিনাইদহের নবগঙ্গা থেকে শুরু করে মাতিয়েছেন মিরপুরের জাতীয় সুইমিংপুল।

সোনিয়ার বাবা আনিসুর রহমান জানান, বড় ছেলে সাঁতার শিখতেন জাহিদ স্যারের কাছে। সোনিয়াও বায়না ধরেন সাঁতার শেখার। বায়নার কারণেই সোনিয়াকে কোচের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন তার বড় ভাই। ২০০৩ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ড দলের হয়ে বয়স ভিত্তিক সাঁতার দিয়ে সোনিয়ার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শুরু। জাতীয় পর্যায়ে জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে ২০০৬ সালে জেতেন ১১টি সোনা, দুটি ব্রোঞ্জ। আর ২০১০ সালে ১১টি ইভেন্টে অংশ নিয়ে দশটিতেই জেতেন সোনা। এর মধ্যে ৯টিতে ছিল জাতীয় রেকর্ড। ঘরোয়া টুর্নামেন্টে এমন সাফল্যই তাকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

সোনিয়া আক্তার এবার রিও অলিম্পিকে সাঁতারের ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে অংশ নেবেন। এবারই প্রথম তিনি অলিম্পিকে অংশ নিচ্ছেন।

সোনিয়া প্রথম আন্তর্জাতিক মিটে অংশ নেন সিঙ্গাপুরে ২০১০ যুব অলিম্পিক গেমসে, ২০১১-তে যুক্তরাজ্যের আইল অব ম্যানে অংশ নেন কমনওয়েলথ যুব গেমসে। এরপর সাঁতরেছেন ২০১৪ কাতার বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০১৫ কাজান বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে।

সূত্র: পরিবর্তন

আপনার মন্তব্য

আলোচিত