২৬ মার্চ, ২০১৫ ১৭:২২
অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার কতভাগ লোক বিশ্বকাপ নিয়ে আগ্রহি কিংবা সেমিফাইনালের অস্ট্রেলিয়া-ভারতের ম্যাচ দেখছিল তারচেয়ে মূখ্য ছিল এ ম্যাচেও ছিল বাংলাদেশ এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের বিদায়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি হাসিমুখে ফিরল বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমিরাও।
রেকর্ডবুকে এ কথাটি হয়ত লিখা থাকবে না কিন্তু এ ম্যাচেও বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে দগদগে ক্ষত হয়ে বারবার উঁকি দিচ্ছিল কোয়ার্টার ফাইনালের সেই বিতর্কিত ম্যাচ যেখানে আম্পায়ারদের সহায়তায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে খেলছে ভারত।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে আম্পায়ারদের বদান্যতা বঞ্চিত হয়েছে ভারত, আইসিসির স্কোরবোর্ডে ছিল না 'জিতেগা ভাই জিতেগা, ইণ্ডিয়া জিতেগা' এমন উদ্দীপক বিজ্ঞাপন তাই বিনাযুদ্ধে মাঠ ছাড়ল ভারত শোচনীয় পরাজয়ের মাধ্যমে। যদিও পিচ বানানো হয়েছিল ভারতীয়দের দাবিকে গ্রাহ্য করে-ন্যাড়া উইকেট কিন্তু সেখানেও ঝড় তুলল অস্ট্রেলিয়ার বোলারেরা, ফলত অসহায় আত্মসমর্পণ করে একে একে মাঠ ছাড়ে ভারতের ব্যাটসম্যানেরা।
বৃহস্পতিবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩২৮ রান করে অস্ট্রেলিয়া। জবাব দিতে নেমে ভারত অলআউট হয় ২৩৩ রানে। ৯৫ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন অধিনায়ক মাহেন্দ্র ধোনি। এর বাইরে ধাওয়ান ৪৫, রাহানে ৪৪ এবং রোহিত করেন ৩৪ রান। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ফকনার ৩ এবং জনসন ও মিশেল স্টার্ক প্রত্যেকেই নেন ২ উইকেট করে। এছাড়াও হ্যাজিলউড নেন একটি উইকেট।
দিনের শুরুটা ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। উমেশ যাদবের বলে বিরাট কোহলির ক্যাচে পরিণত হয়ে ফিরে যান ডেভিড ওয়ার্নার।
দ্বিতীয় উইকেটে স্মিথ ও অ্যারন ফিঞ্চের দৃঢ়তা ভরা ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়ে অস্ট্রেলিয়া। শতকে পৌঁছে স্মিথের বিদায়ে ভাঙে তাদের ১৮৬ বল স্থায়ী ১৮২ রানের জুটি।
৯০ রান থেকে শতকে পৌঁছাতে মাত্র দুই বল খেলেন স্মিথ। মোহাম্মদ সামির বলে ছক্কা ও চার হাকিয়ে নিজের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান তিনি। যাদবের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়া স্মিথের (১০৫) ৯৩ বলের ইনিংসটি ১১টি চার ও ২টি ছক্কা সমৃদ্ধ।
ক্রিজে এসেই রানের গতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তবে নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি।
এক সময়ে ২ উইকেটে ২৩২ রানে পৌঁছে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে হঠাৎ করেই ছন্দ পতন ঘটে। এরপর ২৮ বলে ১৬ রান যোগ করতেই ম্যাক্সওয়েল, ফিঞ্চ ও অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বিশ্বকাপের ফেভারিটরা।
বিপজ্জনক ম্যাক্সওয়েলকে ফেরান অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে যাদবের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন ফিঞ্চ (৮১)। তার ১১৬ বলের ইনিংসটি সাজানো ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় গড়া।
রান বাড়ানোর চাপে ফিরে যান ক্লার্কও। মোহিত শর্মার বাজে একটি বলে পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে রোহিত শর্মার ক্যাচে পরিণত হন তিনি।
নিয়ন্ত্রিত বল করা অশ্বিনের শেষ বলে বিশাল ছক্কা হাকিয়ে নিজেদের ওপর থেকে চাপটা সরিয়ে নেন শেন ওয়াটসন। রানের গতি বাড়ানোয় ভালো অবদান রাখেন জেমস ফকনারও। তাকে বোল্ড করেন ভারতের সেরা বোলার যাদব। ৭২ রানে ৪ উইকেট নেন এই পেসার।
ওয়াটসনের বিদায়ের পর ক্রিজে আসা মিচেল জনসনের ৯ বলে অপরাজিত ২৭ রানের ছোট্ট ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ সোয়া তিনশ’ পার হয়।
আপনার মন্তব্য