সিলেটটুডে স্পোর্টস ডেস্ক

২৭ মার্চ, ২০১৫ ০৪:২০

প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল-৩: ফ্রান্স-১ (গোলের ভিডিওসহ)

স্তাদে দে ফ্রান্স স্টেডিয়ামকে ঘিরে ব্রাজিলের হতাশার অন্ত ছিল না। এখানেই বিশ্বকাপ স্বপ্নের সমাধি হয়েছিল ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরে। ব্রাজিল দল অনেকদিন ভুলতে পারেনি সে ক্ষত!

রোনাল্ডো-জিদান নামক দুই গ্রেট ফুটবলার ছিলেন মাঠে। মাঠের যুদ্ধে সে ম্যাচ জিতেছিলেন জিদান। আর এই দুই গ্রেট যখন ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে তখন নেইমারদের কাছে নাস্তানাবুদ ফ্রান্স। ব্রাজিল ম্যাচ জেতে ৩-১ গোলের ব্যবধানে।

ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ হতাশা পেছনে ঠেলে দুঙ্গার অধীনে টানা ৬ ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে খেলতে নামে ব্রাজিল। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ছিটকে পড়ার পর থেকে অপরাজেয় ছিল ফরাসিরাও। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নয়, ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়ামে এ রাতে হয়তো দুই দলের খেলোয়াড়দের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছিল ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি।

দুই দলের কোনো খেলোয়াড়ই ১৭ বছর আগের ওই ম্যাচে ছিল না। কিন্তু সেই রাতের ওই লড়াইয়ের দুই সেনাপতি যে বৃহস্পতিবার রাতে মাঠেই ছিলেন। ব্রাজিল কোচ দুঙ্গা সেদিন ছিলেন অধিনায়কের ভূমিকায়। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের বাহুতেও সেদিন ছিল অধিনায়কের ব্যান্ড।

ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত স্বাগতিকরা ছোট ডি বক্সের মধ্যে বল পেয়ে হেড করেছিলেন করিম বেনজেমা। কিন্তু গোললাইন থেকে দারুণ দক্ষতায় সেটা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জেফারসন। এরপর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় ব্রাজিল; ২০তম মিনিটে বাঁ-দিক থেকে কোনাকুনি শট নিয়েছিলেন নেইমার, কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।

পরের মিনিটেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স; মিডফিল্ডার মাথিউ ভালবুয়েনার কর্নারে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার ভারানে। ২৮তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করে ফ্রান্স, পরের মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় ব্রাজিল।

৪০তম মিনিটে অস্কারের নৈপুণ্যে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। হফেনহাইমের মিডফিল্ডার রবের্তো ফিরমিনোর সঙ্গে বল দেয়া করে ডি বক্সে ঢুকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান চেলসির এই মিডফিল্ডার। জাতীয় দলের হয়ে অস্কারের এটা দ্বাদশ গোল।

দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে ডি বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে আচমকা শটে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ব্রাজিল মিডফিল্ডার গুস্তাভো, কিন্তু বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ধরে ফেলেন গোলরক্ষক। ৫৬তম মিনিটে সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন চিয়াগো সিলভা, কিন্তু খুব কাছ থেকেও বলে পা লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি।

পরের মিনিটেই দুর্দান্ত এক গোলে দলকে ম্যাচে এগিয়ে দেন নেইমার। উইলিয়ানের কোনাকুনি পাস ধরে বাঁ-দিকের দুরূহ কোণ থেকে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান বার্সেলোনার এই তারকা। জাতীয় দলের হয়ে গত ১৫ ম্যাচে নেইমারের এটা ষষ্ঠদশ গোল; আর ৪৩তম গোল হলো এই তারকার।

৬৯তম মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করে জয়টা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন গুস্তাভো। চেলসির মিডফিল্ডার উইলিয়ানের কর্নারে হেড করে গোলটি করেন ভলফসবুর্গের এই মিডফিল্ডার। গোলটিতে ফরাসি রক্ষণের দুর্বলতা বেশ ভালোভাবেই চোখে পড়ে।

৭৭তম মিনিটে ফের নেইমার জাদুর দেখা মেলে; পেছনে লেগে থাকা দুই জন ডিফেন্ডারকে গতিতে পরাস্ত করে জোরালো শট নেন তিনি, কিন্তু বল লক্ষ্যে রাখতে পারলেন না।

ভিডিও : সবগুলো গোলের ভিডিও ইউটিউবের সৌজন্যে

আপনার মন্তব্য

আলোচিত