স্পোর্টস ডেস্ক

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:৩৯

লিটন দাসের ১৪২ বলে ২০৩ রান

এবার বলতেই হয় ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার লিটন কুমার দাস এশিয়া কাপের ফাইনালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি করার পর এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগে দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরি করলেন রংপুর বিভাগের এই ওপেনার।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টি২০, ওয়ানডে এমনকি টেস্টে তার যে কয়টি ভালো ইনিংস আছে তা সবগুলই দ্রুত রান তুলেই করেছেন। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায়ও খুব একটা ব্যতিক্রম নন তিনি। এশিয়া কাপের ফাইনালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি করার পর আত্মবিশ্বাসী লিটন দাস এবার ঝড় তুললেন জাতীয় লিগে। সেই ঝড় থামার আগে করেছেন ডাবল সেঞ্চুরির দারুণ এক রেকর্ড।

রাজশাহীতে আজ রংপুর দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ বাঁচানোর জন্যই নেমেছিল। প্রথম ইনিংসে রংপুর ১৫১ রান করার পর রাজশাহী গতকালই চড়ে বসেছিল রানের পাহাড়ে। দুই ওপেনার মিজানুর রহমান ও নাজমুল হোসেন শান্ত পেয়েছিলেন সেঞ্চুরি। আজ তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন জুনাইদ সিদ্দিকীও, ১০০ রান করে অপরাজিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৫৮৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে রাজশাহী।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইনিংস পরাজয় এড়াতেই রংপুরকে করতে হতো ৪৩৮ রান। প্রথম ইনিংসে রান পাননি লিটন দাস, দ্বিতীয় ইনিংসে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েই দিয়েছেন। জহির জাবেদের সঙ্গে জুটিটা স্থায়ী হয়েছিল ৯৮ রান পর্যন্ত, ৩৫ রান করে আউট হয়ে গেছেন জহির। এরপর মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে ঝড় শুরু করেন লিটন।

৮১ বল সেঞ্চুরি করেছেন, এরপর আরও বেশি আগ্রাসী হয়েছেন। ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন ১৪০ বলে, ভেঙেছেন বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। ১৯১ রান থেকে তাইজুলের দুই বলে পর পর চার ও ছয় মেরে পৌঁছেছেন ২০০ রানে। এর দুই বল পরে তাইজুলের বলেই আউট হয়েছেন ২০৩ রান করে। দিন শেষে মাত্র ৪৯ ওভারে ২ উইকেটে ৩১৯ রান তুলেছে রংপুর। ৭২ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদুল হাসান, ২ রানে ব্যাট করছিলেন সাজেদুল ইসলাম।

এদিকে, ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ৩১২ রান নিয়ে আজ ইনিংস শুরু করেছিল ঢাকা মেট্রো। ১৮৬ রানে ব্যাট করছিলেন সাদমান ইসলাম, কিন্তু আগের দিনের সঙ্গে মাত্র ৩ রান যোগ করে আউট হয়ে গেছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিও পাওয়া হয়নি। এর পরেই নিয়মিত উইকেট হারাতে শুরু করে ঢাকা মেট্রো, শেষ পর্যন্ত ৩৮৭ রান করে অলআউট হয়ে যায়। ঢাকা বিভাগের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন সালাউদ্দিন শাকিল।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪ রান করে আউট হয়ে যান রনি তালুকদার। দ্বিতীয় উইকেটে আবদুল মজিদ ও সাইফ হাসান ৪৩ রান যোগ করার পর আউট হয়ে যান মজিদও। ঢাকা বিভাগের রান তখন ৫০ রানে ২ উইকেট, এরপর বৃষ্টিতে আর খেলা শুরু হয়নি।

বরিশালের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ১৯৯ রান নিয়ে আজ নেমেছিল খুলনা। আগের দিন ৪৬ রানে অপরাজিত থাকা জিয়াউর রহমান আজ সেঞ্চুরি পেয়েছেন, ১১২ রান করে আউট হয়েছেন মোসাদ্দেকের বলে। অন্য প্রান্তে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন আফিফ হোসেন। খুলনার ৭ উইকেটে ৩৪৯ রান তোলার পর বৃষ্টির জন্য আর খেলাই হয়নি।

অন্যদিকে কক্সবাজারে চট্টগ্রাম ও সিলেটের ম্যাচটা দ্বিতীয় দিনের মতো তৃতীয় দিনও পরিত্যক্ত হয়ে গেছে বৃষ্টির জন্য।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত