নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ জুলাই, ২০২৬ ১৩:০১

সিলেটে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং, নিস্তার মিলবে কবে?

সিলেটে বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতীষ্ঠ হয়ে ওঠেছেন গ্রাহকরা। দিন রাত সমান তালে লোডশেডিং করা হচ্ছে। এমনকি মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। প্রতিঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। কোন কোন এলাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। নগরের চেয়ে গ্রাম অঞ্চরে অবস্থা আরও খারাপ।

এদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। লোডশেডিংয়ের কারণে দুর্ভোগে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদামাফিক সরবরাহ না পাওয়ার কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

আর গত রোববার সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট কমে গেছে। একারণে লোডশেডিং বেড়েছে।

সিলেটে গত ১০/১২ দিন ধরে লোডশেডিং মারাত্মক আকার নিয়েছে। দিনের বড় অংশই বিদ্যুৎ থাকে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

নগরের দরগামহল্লা ও স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকার ফার্মেসি বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. মুবিন আহমদ অভিযোগ করে বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যুৎ গেলে কখনো দুপুর দেড়টায়, আবার কখনো ২টার দিকে আসে। কিছুক্ষণ থাকার পর বিকেল ৩টা বা সোয়া ৪টার দিকে আবার যায়। এরপর ফের ৫টা সাড়ে ৫টার দিকে আসে।

তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর আবার নেই। বাসায় যখন ফিরি তখনও বিদ্যুৎ পাই না। ছেলের সঙ্গে কিছুক্ষণ খেলাধুলা করি। এরপর ভাত-তরকারি যখন রেডি হয় তখন একবার বিদ্যুৎ আসে। এমনটা গত ৮-১০ দিন ধরে চলছে। সারারাত বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে। অসহনীয় অবস্থা।’

নগরের মধুশহীদ এলাকার বাসিন্দা আনজুম লুবাবা পেশায় সফটওয়্যার ডেভেলপার। রিমোট জবের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করে থাকেন। লোডশেডিং তাঁকে সীমাহীন ভোগান্তিতে ফেলেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা, দেড়টা থেকে আড়াইটা, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা। ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা। এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ায় সব কাজে ব্যাঘাত ঘটে। তা ছাড়া আমি বাইরের কাজ করি। সময়মতো কাজ ডেলিভারি ও রেসপন্স না করলে এটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’

ঢাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে সদ্য শিফট হয়েছি সিলেট। মিরপুর এলাকায় কারেন্ট যেত না, গেলে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট। কিন্তু সিলেটে এসে মনে হচ্ছে বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে।’

নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকার তানজিল আহমদ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে সিলেটে তীব্র গরম। তার মধ্যে প্রায় ৮-১০ দিন ধরে বিদ্যুৎ লোডশেডিং সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমাদের ভোগান্তির চেয়ে বেশি কষ্ট হয় বাচ্চাদের। তাদের সুস্থ রাখাই এখন দুশ্চিন্তার কারণ।’

সিলেটের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। দিনে ২৩০-২৪০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে গড়ে ১৪০-১৫০ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘পরিস্থিতির উন্নতি পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করছে। গত কয়েকদিন ধরে সমস্যাটি বেশি হচ্ছে। উৎপাদন বাড়লে সরবরাহও স্বাভাবিক হবে। তবে ঠিক কবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এটা একটা জাতীয় সংকট।

আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “উন্নতি হলে লোডশেডিংয়ের প্রকোপ কমে যাবে।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত