০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩১
হবিগঞ্জে এক দরিদ্র নারী গ্রাহকের এক মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার ১০৪ টাকা। বিদ্যুৎ অফিস থেকে পাঠানো বিলের কাগজে টাকার এই অংক উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিল হাতে পেয়ে হতবাক জেলার সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের তানিয়া আক্তার সোমা নামের ওই গ্রাহক। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ওই গ্রাহকের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যেই আসত। কিন্তু চলতি মাসের বিলে হঠাৎ করেই কোটি টাকার বেশি পরিশোধযোগ্য অর্থ দেখানো হলে তারা বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
বিলটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি হবিগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নজরে আসে। এরপর কর্তৃপক্ষ বিলটি যাচাই করে এটিকে তথ্য এন্ট্রিজনিত ভুল বলে নিশ্চিত করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।
হবিগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “কম্পিউটারে তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় সংখ্যাগত ভুলের কারণে বিলের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। এটি কোনো প্রকৃত বিল নয়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিল সংশোধন করা হয়েছে। গ্রাহককে সংশোধিত বিল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের শুরুতে অপারেশনাল অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়েছে। তবে এ ঘটনায় গ্রাহকের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানার পরই প্রকৃত বিল সংশোধন করে অনলাইন সিস্টেমে হালনাগাদ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এমন ভুল যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে জিএম বলেন, “জরুরি সভা করে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। বিল প্রস্তুতের প্রতিটি ধাপে আরও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের ভুল সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ও ভোগান্তি সৃষ্টি করে। তারা বিল প্রস্তুতের আগে তথ্য একাধিকবার যাচাই এবং নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মন্তব্য