হামিদুর রহমান, মাধবপুর

২৩ মার্চ, ২০২১ ০২:৪৫

মাধবপুরে স্টেশনমাস্টারের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ

ঢাকা-সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জের মাধবপুরের মনতলা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগ স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে। অনিয়মে তাকে সহায়তা করেন স্টেশনের বুকিং সহকারী। তাদের যোগসাজসে আন্তঃনগর ট্রেনের অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে।

ফলে নির্ধারিত কাউন্টারে না পেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ভিন্ন উপায়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ ছাড়া আন্তঃনগর ট্রেনগুলো যাত্রাবিরতি করলে ট্রেনের অ্যাটেনডেন্স ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা টিকিট ছাড়াই টাকা নিয়ে যাত্রীদের ট্রেনে তুলে দেন। মনতলা স্টেশনে এমন চিত্র প্রতিদিনেরই।

গত ১৪ মার্চ স্টেশন মাষ্টার এস এম মানিক হোসেন এবং বুকিং সহকারী মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে টিকিটের মূল্য বেশি রাখা এবং যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠে। পরের দিন ১৫ মার্চ বিষয়টি জানাজানি হলে স্টেশন মাস্টার বিভিন্নভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

সাদেকুর রহমান রাফি নামের এক যাত্রী টিকেট কালোবাজারির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মা অসুস্থ। আমার মাকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্যে মনতলা রেল স্টেশনে আমার পিতা রজব আলী ১৪ মার্চ টিকেট ক্রয় করতে গেলে কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার এসএম মানিক হোসেন ও বুকিং সহকারী মজনু মিয়া ১০৫০ টাকা নিয়ে ৪টি টিকেট দেন। মনতলা থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন জয়ন্তিকার টিকেটের মূল্য ১৮৫ টাকা হলেও কালোবাজারে তা কিনতে হয়েছে ২৬২ টাকা করে। তাৎক্ষনিক আমি গিয়ে টিকেটের মূল্য বেশি রাখার বিষয় প্রতিবাদ করি এবং মূল্য বেশি রাখার কারণ জানতে চাই বুকিং সহকারী মজনু মিয়ার কাছে। তিনি জানান, শায়েস্তাগঞ্জের টিকেট দেওয়া হয়েছে তাই দাম বেশি রাখা হয়েছে।’

‘‘তখন স্টেশন মাষ্টার এসএম মানিক হোসেনকে স্টেশনে পাইনি। আমার কাছে তখনও তাদের প্রদান করা মনতলা থেকে ঢাকাগামী ৪টি টিকেট ছিল অথচ তারা আমাকে বারবার শায়েস্তাগঞ্জের টিকেট বলে দাম বেশি নিয়েছে বুঝাতে চেষ্টা করছিলো। পরে তারা আমার হাত থেকে দুটি টিকেট ফেরত রেখে পরের দিন সকালে শায়েস্তাঞ্জের টিকেট দিবেন বলে জানান। তখন আমি আবারও প্রতিবাদ করি মনতলার টিকেট থাকতে দাম বেশি দিয়ে কেন শায়েস্তাগঞ্জের টিকেট নেব। তিনি তখন সঠিক উত্তর না দিয়ে আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং তার অফিস থেকে বের করে দেন।’’

‘‘পরের দিন ৬ মার্চ ইস্যু করা ২১৫ টাকা মূল্যের ২টি শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের টিকেট আমার হাতে ধরিয়ে দেন। তারপরও কেন আমার বাবার কাছ থেকে ২৫০ টাকা বেশি রাখা হয়েছে তার সদুত্তর দিতে পারেনি এবং আবারও আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন তারা।’’

সাদেকুর রহমান বলেন, ‘আমি লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো বললে বুকিং সহকারী মজনু মিয়া আমার সাথে আরও খারাপ আচরণ করেন এবং তাদের কিছু করতে পারবো না বলে জানান এবং স্টেশন রুমে থাকা কম্পিউটার ফেলে দিয়ে আমার বিরোদ্ধে রেল ডাকাতির মামলা দিবেন বলে হুমকি দেন। এ ব্যাপারে গত ১৮ মার্চ আমি মাধবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি, যাহার নম্বর ৯৬৮।’

সরেজমিনে রবিবার ঘটনার সত্যতা জানতে স্টেশনে গেলে একাধিক যাত্রী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘এগুলো প্রতিদিনের ঘটনা তারা নিয়মিতই সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত দাম রাখে টিকেটের এবং ব্যবহারও খারাপ করে।’

এসময় স্টেশনে পাওয়া যায়নি স্টেশন মাষ্টার এস এম মানিক হোসেনকে। তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

কথা হয় দায়িত্বরত (ভারপ্রাপ্ত) স্টেশন মাষ্টার পরেশ আলী সিকদারের সাথে। তিনি জানান, তখন স্টেশনে ছিলেন না। পরে এসে শুনেছেন একজন যাত্রীর সাথে ভুল বোঝাবোঝি হয়েছে। টিকেটের অতিরিক্ত দাম নেওয়ার ব্যাপারটি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুকিং সহকারী মজনু মিয়া বলেন, ‘টিকিট নিয়ে একটু ভুল বোঝাবোঝি হয়েছে। আমরা বেশি দামে টিকিট বিক্রি করি না। আর আমি কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করি নাই।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত